চীনের বিরল খনিজের ওপর আধিপত্য কমাতে করণীয় নিয়ে গত সোমবার ওয়াশিংটনে বৈঠক করেছেন জি৭ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা। বৈঠকে বিকল্প উৎস গড়ে তোলার জন্য ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ (ফ্লোর প্রাইস), নতুন অংশীদারত্ব তৈরিসহ নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন তারা। খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জি৭ সদস্য জাপান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং ইউএস এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক ও জেপি মরগানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক শেষে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তবে ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, বিশেষ করে বিরল খনিজ উপাদানের সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় করার সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়ে ঝুঁকি কমানো (ডি-রিস্কিং) নীতিতে এগোনোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অন্যদিকে, জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা সাংবাদিকদের বলেছেন, বিরল খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তৃত ঐকমত্য হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, চীনের বাইরে বিরল খনিজের সরবরাহ বাড়াতে জি৭ ও সমমনা দেশগুলোর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি, কর্ম প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।
আবার জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল জানিয়েছেন, বৈঠকে বিরল খনিজের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহ বাড়াতে অংশীদারত্বের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে তিনি আরও বলেছেন, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং বহু বিষয় অমীমাংসিত। এ বছর জি৭-এর ফ্রান্সের সভাপতিত্বে বিরল খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ একটি কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হবে বলেও জানান তিনি।
রয়টার্সের সংবাদ উল্লেখ করা হয়েছে, এই বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিলিয়ে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের আধিপত্য স্পষ্ট।