আমি অভিনেতা, প্রতিটি মাধ্যমে অভিনয় করে যেতে চাই: সোহেল মণ্ডল

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ | ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

সোহেল মণ্ডল। নন্দিত অভিনেতা। সম্প্রতি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘আঁতকা’। এই সিরিজের পাশাপাশি বর্তমান ব্যস্ততা, অভিনয় নিয়ে ভাবনাসহ অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে শুরু থেকে ভিন্ন ধাঁচের গল্প ও চরিত্রে অভিনয় করে যাচ্ছেন। সে হিসেবে ‘আঁতকা’ ওয়েব সিরিজেও কী এমন চোখে পড়বে, যা দর্শকের কাছে আলাদা মনে হবে? মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্পকে একটু আলাদাভাবে তুলে আনা হয়েছে ‘আঁতকা’ সিরিজে। স্বাভাবিকভাবে হাসি-কান্না, ভুল বোঝাবুঝি, সাংসারিক টানাপোড়েন, সংগ্রাম– এসব নিয়ে চলতে থাকে ঘটনা প্রবাহ। কিন্তু এমন কিছু পরিবারে আচমকা এমন কিছু ঘটে যায়, যা কারও ভাবনায়ও থাকে না। আচমকা বা আঁতকা যা-ই বলি না কেন, তেমনই তেমনই ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাবে এই সিরিজের গল্প। সাধারণত এ ধরনের গল্প নিয়ে ওয়েব সিরিজ খুব একটা হয়নি। এ কারণে অন্যান্য ওয়েব সিরিজ থেকে ‘আঁতকা’ দর্শকের কাছে কিছুটা আলাদা বলে মনে হবে, তেমনি দর্শকও আমাকে নতুনরূপে দেখার সুযোগ পাবেন। অভিনয়ের আগে আপনার ভাবনাটা কী থাকে? সব সময় চাই, পর্দায় নতুন কিছু তুলে ধরতে। সেই ভাবনা থেকে যতটা পারি, বাছ-বিচার করে কাজ করি। অবশ্য যে কাজের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে চাইলেই এককভাবে সবকিছু করা সম্ভব নয়। কাহিনিকার, নির্মাতা, সহশিল্পী থেকে শুরু করে অন্যান্য কলাকুশলীদের নিয়েই একযোগে কাজ করতে হয়। আমি যা পারি, তা হলো– অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা। পর্দার চরিত্রটি দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সাধ্যমতো কাজ করে যেতে পারি। সেই চেষ্টা কতটা সফল বা ব্যর্থ, তার বিচারভার আসলে দর্শকের হাতে। দর্শক প্রশংসা কুড়ানো চরিত্রগুলো পর্দায় তুলে ধরতে কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন? শুধু দর্শক মনে ছাপ ফেলে যাওয়া চরিত্র নয়, যখন যে কাজগুলো করেছি, বা করছি, তার জন্য নিজ থেকে এক ধরনের প্রস্তুতি ছিল। গল্পের প্রেক্ষাপট বুঝে চরিত্রের ভাবনার জগতৎকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি। এরপর শুরু হয় চরিত্রের নির্মাণ। চরিত্রের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাই ক্যামেরার সামনে। দর্শক একবার যেন মনে হয়, পর্দার মানুষটির নাম সোহেল মণ্ডল– তার জন্য অভিনয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। এভাবেই ‘তাকদীর’, ‘বলি’, ‘টান’, ‘পেটকাটা ষ’, ‘হওয়া’, ‘ক্যাফে ডিজায়ার’, ‘মায়ার জঞ্জাল’, ‘আন্তঃনগর’, ‘শ্যামাকাব্য’ থেকে শুরু করে ‘আঁতকা’ পর্যন্ত বিভিন্ন সিনেমা ও সিরিজগুলোয় অভিনয় করে গেছি। এ ক্ষেত্রে মঞ্চ থেকে শেখা বিষয়গুলো আমার সাহস জুগিয়েছে। পর্দায় অভিনয় তুলে ধরাতে যে মাধ্যমটি আপনাকে সাহসী করে তুলেছে, সেই মঞ্চেই আপনার দেখা মিলছে না, কারণ কী? থিয়েটার থেকে আমি আদৌ সরে যাইনি। ব্যাটে-বলে মেলেনি বলেই কাজ করা হয়ে ওঠেনি। নতুন প্রজেক্টে কাজ করতে পারছি না, তবে ভাবছি। মঞ্চে কাজ করার ইচ্ছা এখনও আছে। দলের নতুন প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন কোনো চরিত্র তুলে ধরার ইচ্ছাটা এখনও প্রবল ভাবেই আছে। ওয়েব সিরিজ ও সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু আপনার টিভি নাটকগুলোর বেশির ভাগই দর্শককে হতাশ করেছে। এর কারণ কী বলে আপনার মনে হয়? সত্যিকার অর্থে টেলিভিশনে প্রত্যাশামাফিক কাজ করা হয়ে ওঠেনি। মনোযোগও ছিল কম। ওয়েব সিরিজ ও সিনেমার বিষয়ে যতটা বাছ-বিচার করে কাজ করেছি, টেলিভিশনের জন্য সেটি হয়নি। সহশিল্পীদের অনেকে যখন বছরে ৫০-৬০টি নাটকে অভিনয় করছেন, সেখানে টেলিভিশনে আমার কাজের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। তাছাড়া ২০২৫ সালে বেশি কাজও করা হয়ে ওঠেনি। যদিও আমার বেশ কিছু নাটকের ভিউ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। তারপরও এটাকে সাফল্য হিসেবে ধরছি না। কারণ, ভিউ দিয়ে কাজের মান বিচার হয় না। দর্শক কাজের মান কীভাবে বিচার করছেন, অভিনয় নিয়ে কী তাদের মত– এটাই ভেবে দেখার বিষয়। তাহলে কি অভিনয়ে ওটিটি আর বড় পর্দাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন? আমি অভিনেতা, প্রতিটি মাধ্যমে অভিনয় করে যেতে চাই। মানছি, টেলিভিশনের কাজগুলো প্রত্যাশামাফিক হয়নি। তাই বলে টেলিভিশনকে বাদ দিয়ে অন্যান্য মাধ্যমকে প্রাধান্য দিব– এটা ভাবা ঠিক হবে না; বরং টিভি নাটকে আরও ভালো কিছু করে দেখানোর দায় অনুভব করছি। চাইছি এমন কিছু কাজ করতে, যা টিভি দর্শকদের মনে অনেক দিন বেঁচে থাকবে। তাই অভিনেতা হিসেবে ওয়েব সিরিজ, সিনেমার পাশাপাশি নাটকের দর্শকদের কাছেও পৌঁছাতে চাই। সবশেষে জানতে চাই নতুন কাজের কথা। এ মুহূর্তে কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন? মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘বনলতা সেন’-এর কাজ শেষে আরও দুটি নতুন সিনেমা হাত নিয়েছিলাম। যার একটি নাম ‘শিল্পজীবী’। এটি আমরা কয়েকজন মিলে নির্মাণ করছি। পাশাপাশি ব্যস্ত আছি আরেকটি বাণিজ্যিক সিনেমার অভিনয় নিয়ে; যার বিষয়ে বিস্তারিত বলা বারণ আছে। আর এই সিনেমার পরই দুটি নাটকের কাজ শুরু করব। এই হলো আমার এখনকার ব্যস্ততা।