এজাহারে নাম নেই তবু জাপা প্রার্থী টিপুর মুক্তি মিলছে না

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ | ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

বরিশাল-৩ বাবুগঞ্জ ও মুলাদী আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুর কারামুক্তি ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আটটি মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। মুলাদী থানায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তাঁকে অজ্ঞাত আসামির তালিকায় গ্রেপ্তারের আবেদন করা হয়েছে। স্বজনের আশঙ্কা, টিপুকে আরও অনেক মামলার জড়ানো হতে পারে, যাতে তিনি ভোটের আগে কারামুক্ত হতে না পারেন। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য টিপু বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে তিনবারের এমপি। ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি মহাজোটের এমপি ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থেকেই তিনি বরিশাল-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর দুটি হত্যাসহ রাজধানীর কয়েকটি থানায় দায়ের হওয়া আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সব মামলা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া। গ্রেপ্তারের পর টিপুকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে মামলা হয় একটি। বাবুগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন হেমায়েত। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের দিন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে টিপুর নেতৃত্বে হামলা করা হয়। টিপুর আইনজীবী বশির আহমেদ সবুজ জানান, পর্যায়ক্রমে সব কটিতে তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। সর্বশেষ রাজধানীর একটি মামলায় গত ১১ জানুয়ারি উচ্চ আদালত তাঁর জামিন আদেশ দিয়েছেন। তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু মুলাদী থানায় বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে গত ১৩ জানুয়ারি আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা। মামলায় আসামি তালিকায় টিপুর নাম নেই। দুই বছর আগে হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয়। মামলায় নামধারী ৫৭ আসামি মুলাদী পৌর, গাছুয়া ও চরকালেখান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী। মামলার অভিযোগকারী হলেন মুলাদী পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম সিকদার। তাঁর অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টায় স্থানীয় খেজুরতলা বাজারে আসামিরা হামলা, ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণ করেছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে টিপুকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মুলাদী থানার এসআই মজিবর রহমান। আগামীকাল রোববার আসামির উপস্থিতিতে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সাবেক এমপি টিপুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে– এটা জানা নেই বলে কাছে দাবি করেন বাদী জসিম সিকদার। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি জানান, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে সভা চলাকালে হামলা করা হয়েছিল। মামলার এজাহারে সাবেক এমপি টিপুর নাম দেননি। পুলিশ দিয়েছে কিনা, জানি না। টিপুসহ অনেকে হামলার হুমকিদাতা ছিলেন। এজাহারে কেন নাম দেওয়া হয়নি– এ প্রশ্নের সদুত্তর দেননি বাদী। মুলাদী থানার ওসির আরাফাত জামান চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সাবেক এমপি টিপু জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিপুর পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে মুক্তি বাধাগ্রস্ত করতে তাঁকে আরও অনেক মিথ্যা মামলায় জড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। বিষয়টি জাপা চেয়ারম্যান সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে জানিয়েছেন। একজন প্রার্থীকে মামলায় জড়িয়ে কারাবন্দি রাখার বিষয়টি ‘রাষ্ট্রীয় আইনি মব’ বলে মন্তব্য করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল আলম। তিনি বলেন, একজন প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভীত হলেই এসব ষড়যন্ত্র করা হয়। টিপুর বেলায়ও এমনটা হয়েছে।