নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশের চারটি সংসদীয় আসনের চার প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন–ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনে (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) একই দলের প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম।
রুমিন ফারহানাকে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য বলেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। রোববার রাতে তাঁর সই করা চিঠিতে ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে রুমিন ফারহানাকে। অন্যথায় তাঁর অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
শনিবার দুপুরে সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদে প্যান্ডেল করে সমাবেশ করছিলেন রুমিন ফারহানা। তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে সেখানে আসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার হাসান খান। তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সমাবেশ বন্ধ করে দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন রুমিন ফারহানা। সেদিনই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইলের ইউএনও মো. আবুবকর সরকার ওই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনেছেন রুমিন ফারহানা। গতকাল সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিমিয়কালে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দেখানোর বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা বলতে গিয়ে আমি এ রকম দেখিয়ে বলেছি। আমার এক অপরাধের বিরুদ্ধে (যদি হয়ে থাকে) তিনবার সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমি এমন প্রশাসনের অধীনে কীভাবে নির্বাচন করি, যারা অলরেডি বায়াসড?’
তিনি নির্বাচনের প্লেয়িং লেভেল ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভার নামে সমাবেশ করছেন। স্টেজ করে মাইক দিয়ে সমাবেশ করছেন। গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য রাখছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘আজ (সোমবার) সকালে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম, কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি।’
চারদিন পর নোটিশ পেলেন তাহেরী
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ নোটিশ পেয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। ওই আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. রবিউল হাসানের ১৫ জানুয়ারি সই করা চিঠিটি সোমবার পেয়েছেন তিনি। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরী নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে আচরণবিধি ২০২৫ লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালান। প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ক্লিপ অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির নজরে আসে, যেখানে তাঁকে দলীয় প্রতীকসহ প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।
গিয়াস উদ্দিন তাহেরী বলেন, তিনি সোমবার নোটিশ পেয়েছেন। এর জবাব দিতে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আইনগতভাবে এর ব্যাখ্যা করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করছেন। এর বাইরে কোনো মন্তব্য করবেন না।
একইভাবে রাজশাহী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে শোকজ করেছে ওই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। রাজশাহীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোছা. কামরুন নাহারের সইয়ে ১৮ জানুয়ারি এই চিঠি দেওয়া হয়। জামায়াতের প্রার্থীকে সশরীরে মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শোকজ করা হয়েছে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামকে। এই আসনের দায়িত্বে থাকা নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষে সিলেটের সিভিল জজ ইমরান হোসেন রোববার এই নোটিশ দেন।
আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়টি জেনেছেন।
(তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা)