গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ এবং কাউকে উপহার, অনুদান বা চাঁদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা উল্লেখ করেছে ইসি। এদিকে এনআইডির তথ্য সংশোধন কার্যক্রম আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালন নিয়ে ইসিতে পালটাপালটি অভিযোগ করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি বিএনপি অভিযোগ করেছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। অপর দিকে, জামায়াতের অভিযোগ, বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা আচরণবিধিমালার লঙ্ঘন। দুই দলের এমন পালটাপালটি অভিযোগের মধ্যে নির্বাচন কমিশন এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণার আড়ালে কিছু ব্যক্তি কর্তৃক ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং এনআইডি সংগ্রহের বিষয়টি নজরে এসেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০ অনুযায়ী, অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বহন কিংবা হস্তান্তর করা যাবে না। এতে আরও বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’র বিধি-৪ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করতে বা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। এসব কার্যক্রম বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইসি সব নাগরিক ও সংগঠনকে উল্লিখিত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
এনআইডি সংশোধন : জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর বলেন, গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। আগামী ২৫ জানুয়ারি তা আবার পুরোদমে চালু করা হবে।