আমাদের সরকারের কেউ এমন কাজ করেনি যে হাসিনার মতো হবে: প্রেস সচিব

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ | ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সেফ এক্সিটের প্রশ্ন উঠছে কেন। আমাদের সরকারের কেউ এমন কোনো কাজ করেনি যে হাসিনার মতো হবে। আমি এই দেশের গর্বিত সন্তান, আমি এই দেশেই থাকব। শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইমামবাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস সচিব বলেন, সারাদেশে ৬০টির মতো মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে ও বাউল ভক্তদের ওপর হামলা হয়েছে। এটি খুবই ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনায় পুলিশ মামলাও করেছে, আবার অনেকেই গ্রেপ্তার আছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির দেশ। সবাই সেটি বজায় রাখবেন। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকবেই এবং আমরা যদি পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি তাহলে আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসিনার সময় মানুষ এদেশে একটি ভালো নির্বাচন দেখেনি। সকালে এসে দেখে ব্যালট চুরি হয়ে গেছে বা তার সামনে দিয়ে ব্যালট বাক্স নিয়ে চলে গেছে। পুলিশ বলেছে তোমার আসার দরকার নেই। মানুষ এখন নির্বাচনমুখী হয়ে পড়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যিনি পীরভক্ত, যিনি পীরভক্ত নন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সব ধর্মের লোক, এমনকি যিনি কোনো ধর্মই বিশ্বাস করেন না, তিনিও ভোট দিতে যাবেন। সবাই মিলে আমরা ভোট দেব। গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) কিছু আরো সহজ করা হয়েছে। সূচিপত্র কীভাবে হবে, কীভাবে রিপোর্ট করবেন, আপনি কীভাবে তথ্যের উপর আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবেন। সেসব বিষয়ে একটা অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। এই সরকার ১৮ মাস ধরে দেশের দায়িত্বে আছে, এই সময়ের মধ্যে সবকিছু তো সম্ভব না। যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেগুলো নিয়ে এই সরকার কাজ করছে। তবে সব বিষয়ের উপরই কাজ করার ইচ্ছা এই সরকারের ছিল, কিন্তু সময় স্বল্পতার জন্য সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না। গণভোটে হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ৯ মাস জাতীয় সংস্কার কমিশনের আলোচনার করার পরই এই গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণভোটের গুরুত্ব বুঝেছে বলেই তো এই আলোচনা। আর এর ফসলই হচ্ছে জুলাই সনদ এবং এটাকেই এখন হ্যাঁ ভোটের জন্য দেওয়া হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলগুলো বলছেন, তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে, কিন্তু নিজেদের প্রচারণা নিয়ে হয়তো একটু ব্যস্ত। দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আমরা বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। সবাই জানবেন যে, কেন আমাদের হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। হ্যাঁ দিতে হবে এইজন্য যে, দেশে যেন আর কোনে স্বৈরাচার ফিরে না আসে, অপশাসন যেন ফিরে না আসে, আপনার ব্যাংকের টাকা যেন কেউ লুটপাট করতে না পারে। এ সময় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা গড়পাড়া গ্রামে ইমামবাড়ির খাদেম আরিফুর রহমান বাবুসহ ইমাম বাড়ির ব্যক্তিবর্গ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা বাটুলিয়া বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শন করেন।