ভারতের সাবেক হাই কমিশনারের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল জামায়াত

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ | ১০:০৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে তার ওই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এর আগে ‘ভোট সুষ্ঠু হলে জামায়াতের জেতার সম্ভাবনা নেই’— বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় জামায়াত। এদিকে বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং একটি বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্রনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষ করে একজন সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে তিনি বলেন, হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তথ্যবিকৃত ও রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। একটি দেশের জনগণ কাকে ভোট দেবে বা দেবে না—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার শুধুমাত্র সে দেশের জনগণেরই রয়েছে। কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের এ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার নেই। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের জনগণই এ দেশের প্রকৃত মালিক। তারাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে কিংবা কোন দল কত ভোট পাবে—এ ধরনের মন্তব্য করে তিনি শুধু বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেননি, বরং প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশও ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত, গণতান্ত্রিক ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রশ্নে দলটি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণই তাদের প্রকৃত রায় দেবে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার আশা প্রকাশ করেন, ভারতের দায়িত্বশীল মহল ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকবেন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখবেন। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, ‘যদি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হয় এবং কারচুপি হয়, তাহলে তারা (জামায়াত) ক্ষমতায় আসতে পারে। নাহলে তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কম। দলটির ভোটের হার পাঁচ থেকে সাত শতাংশ, তাও আবার অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তায়।’