টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারত যাচ্ছে না বাংলাদেশ। টাইগারদের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে জায়গা করে দিয়েছে আইসিসি। এ নিয়ে ক্রিকেট-বিশ্বে আলোচনা চলছেই। এই তালিকায় এবার যোগ দিলেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া; আইসিসির সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু তাই নয়? বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্যও করেন তিনি। তার ধারণা, বাংলাদেশ সম্ভবত পাকিস্তানের প্ররোচনায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মদন লাল বলেন, ‘আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো যে পাকিস্তানও তাদের কিছুটা ভুল পথে পরিচালিত করেছে। কারণ দেখুন, পাকিস্তান নিজে তো বিশ্বকাপ খেলছে, কিন্তু বাংলাদেশ খেলছে না।’
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক বলে মনে করছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল। তিনি বলেন, একটি ভুলের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হলো, তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। মদন লাল মনে করেন, বাংলাদেশের মতো একটি দলের জন্য বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ বর্জন করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না গিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে। আপনি যদি এত বড় একটি ইভেন্ট মিস করেন, তবে আইসিসি কোনো না কোনো অবস্থান তো নেবেই। তারা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে একদম সঠিক কাজ করেছে।’
কারণটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। মদন লালের ভাষায়, ‘আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো যে পাকিস্তানও তাদের কিছুটা ভুল পথে পরিচালিত করেছে। কারণ দেখুন, পাকিস্তান নিজে তো বিশ্বকাপ খেলছে, কিন্তু বাংলাদেশ খেলছে না। তার মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল এই বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরে আসরগুলোতেও বাংলাদেশকে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। কারণ, আইসিসি যদি আগামী বিশ্বকাপেও তাদের খেলতে না দেয়, তবে বাংলাদেশ বোর্ড সম্ভবত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এটি একটি বিশাল ক্ষতি এবং বর্তমান সময়ে খেলাধুলা মূলত বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই পরিচালিত হয়।’
আইসিসির বোর্ড সভায় ভোটাভুটির প্রসঙ্গ টেনে মদন লাল দাবি করেন, বিসিবির কূটনৈতিক ব্যর্থতা এখানে স্পষ্ট। তার কথা, ‘যদি আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হতো, তবে তা অনেক ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত ছিল। ১৪টি ভোটের বিপরীতে আপনাদের পক্ষে মাত্র দুটি ভোট পড়েছে। মিটিংয়ের আগেই আপনাদের কিছুটা ধারণা নেওয়া উচিত ছিল যে আপনারা কতগুলো ভোট পাবেন। অন্তত ৫-১০টি ভোট পেলেও নাহয় একটি কথা ছিল।’