জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনাদেরকে সাবধান করে যাব, কেউ যদি কালো চিলের রং ধারণ করে ভোট ছোঁ মেরে নিতে চায়, ওর ডানাসহ ছিঁড়ে ফেলবেন। আগের ১৫ বছর আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব-এটা অচল। আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোট তুমি দেও, আমার ভোটে হাত বাড়ালে খবর আছে। নিজেদের ভোটের পাহারাদার হতে হবে, অন্যের ভোটেরও পাহারাদার হতে হবে।’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাট খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার মোড় সংলগ্ন মাটে জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাজনীতির এই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই। যার যোগ্যতা আছে, সেই দেশ পরিচালনা করবে।’
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জামায়াত জোট মনোনীত বাগেরহাট-১ আসনের প্রার্থী মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল আলীম, খেলাফত মজলিসের বাগেরহাট জেলার সভাপতি মুফতি আমিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, এনসিপির বাগেরহাট জেলার সিনিয়র সমন্বয়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল, জেলা সেক্রেটারি শেখ মুহাম্মদ ইউনুস প্রমুখ।
বাগেরহাটের উন্নয়ন ইস্যুতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাগেরহাটের অনেক সমস্যা আছে, আবার অনেক সম্ভাবনাও রয়েছে। যুগযুগ ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালে বাগেরহাটের শরণখোলায় এসেছিলাম। সেখানে জমির আইল দিয়ে চলতে হয়েছে, ভালো একটা রাস্তা নেই। তিনবার পড়ে গিয়েছিলাম, আবার উঠে চলতে লাগলাম। কেন বাগেরহাট কি দেশের বাইরে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, সুযোগ পেলে যে এলাকা পিছিয়ে রয়েছে, তার উন্নয়ন করা হবে। আমরা কোন এলাকা এমপি-মন্ত্রীর এলাকা তা দেখব না। আমরা যে এলাকার যা ন্যায্য পাওনা তাই দেব।’
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পররাষ্ট্র নীতি কেমন হবে সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশকে আমরা বন্ধু হিসেবে পেতে চাই, কিন্তু অতীতে বন্ধুর নামে কিছু প্রভুত্ব কায়েম হয়েছিল। আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছিল তারা, ৫৪ বছরের অনেক সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল, আগামীতে এই জাতি আর কোনো আধিপত্য বাদ বরদাস্ত করবে না। আমরা সবাইকে বন্ধু হিসেবে পেতে চাই কাউকেই প্রভু হিসাবে দেখতে চাই না। আমরা সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো প্রতিবেশীর সম্পর্ক রক্ষা করব। আমরা চাই আমাদের সঙ্গেও যেন সেই সম্পর্কটা বজায় থাকে।’
গণভোট ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানেই হচ্ছে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে না আসুক, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে, হ্যাঁ জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। আমরা বাংলাদেশকে হেরে যেতে দিতে পারি না। ১২ তারিখে দুটি ভোট হবে- প্রথম ভোটটি হবে গণভোটের পক্ষে। শুধু আমি না, মা-বাবা-ভাই-বোন সবাই ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেবেন। আর দ্বিতীয় ভোটটি হবে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। ১১ দল যে প্রতীক নিয়ে যেখানে এসেছে, আমরা সবাই এক। আমাদের পরিচয়, আমরা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।