আগামী ১০ বছরে কর জিডিপি ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ জাতীয় টাস্কফোর্সের

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ | ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

কর কাঠামো সংস্কার সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর–জিডিপি অনুপাত কমপক্ষে ১০ শতাংশে এবং দশ বছরের মধ্যে অন্তত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান পরোক্ষ করনির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানো এবং শুল্ক কাঠামো আধুনিক করার প্রস্তাব দিয়েছে টাস্কফোর্স। এই সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে সরকার গঠিত জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি। প্রতিবেদনটির শিরোনাম— “উন্নয়নের জন্য করনীতি: কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনে একটি সংস্কারমূলক কর্মসূচি”। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুততর ও টেকসই করতে হলে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো জরুরি। এ জন্য সামান্য বা খণ্ডিত সংস্কারের পরিবর্তে কর ব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে কর–জিডিপি অনুপাত ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বর্তমান ৩০:৭০ অনুপাত পরিবর্তন করে ৫০:৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান কর ব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই কাঠামো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করছে। ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, সহজ কর কাঠামো এবং প্রণোদনা পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় করের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানি ও আমদানির বিকল্প পণ্যের কার্যকর সুরক্ষা সমান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পণ্য খালাসে বন্দরের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট জোরদার এবং আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ভ্যাট ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে একক হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় খুব কম। তবে আমরা এসব নীতির বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করে যেতে চাই।” তিনি বলেন, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন আসবে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রতিবেদন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। টাস্কফোর্স প্রধান ড. জায়েদী সাত্তারের মতে, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আহরণের পরিসর বাড়ানো সম্ভব নয়। আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, প্রতিবেদনে বিদ্যমান সংকটগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে তা নিরসনের পথনির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন- ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রফেসরিয়াল ফেলো ড. সুলতান হাফিজ রহমান, কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এমেরিটাস ড. সৈয়দ মইনুল আহসান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলম, আইসিএমএবির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, চামড়া ও জুতা শিল্পমালিকদের সংগঠণের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, আইসিএবির সহসভাপতি মুহাম্মদ মেহেদী হাসান, এফবিসিসিআইয়ের জেষ্ঠ অতিরিক্ত মহাসচিব শাহ মো. আব্দুল খালেক, এফবিসিসিআইর বাজেট এক্সপার্ট কমিটির সদস্য স্নেহাশীষ বড়ুয়া এবং টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব ছিলেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী।