নতুন সংকটের মুখে আইসিসি

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ | ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

নতুন সংকটের মুখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত বদলাতে পাকিস্তানকে রাজি করাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সংস্থাটি। শ্রীলংকা ক্রিকেট (এসএলসি)ও আইসিসির সঙ্গে একযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং পাকিস্তান সরকারকে ম্যাচ বয়কট সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ করছে, কিন্তু পাকিস্তান এখনো অটল রয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে না গড়ালে আইসিসি, ব্রডকাস্টার এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য যে বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত ম্যাচ খেলাতে পাকিস্তানকে রাজি করাতে ব্যর্থ হলে আগামী চক্রে আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তি নবায়ন নাও করতে পারে জিও হটস্টার। ওই দুই দেশের ম্যাচটি শুধু ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এটি বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্পদ। আইসিসির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, এই এক ম্যাচ থেকেই প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় হয়, যা ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্য, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে জিও হটস্টার ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা) আইসিসির সম্প্রচার স্বত্ব কেনে, যেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যদি ম্যাচটি না হয়, তবে শুধুমাত্র চলতি বিশ্বকাপ নয়, ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলোর আর্থিক কাঠামোও বড় ধাক্কা খাবে। ঘটনার সূত্রপাত মূলত বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। এরপর বাংলাদেশ সরকার বা বোর্ডের সবুজ সংকেত না পেয়েই তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ করে দেয় আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার এমন সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান। বাংলাদেশকে সমর্থনের পাশাপাশি আইসিসির এমন আচরণের জবাবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান সরকার, যা ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আগেই নিশ্চিত করেছেন, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও বাবর আজমরা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবেন না। তবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি আয়োজনে মরিয়া হয়ে উঠেছে আইসিসি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়ান দেশগুলোর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জিও হটস্টারের চুক্তি নবায়ন না করার সম্ভাবনাই বেশি। যদি জিও নতুন করে একই দামে চুক্তি না করে, কিংবা আইসিসি অন্য কোনো সম্প্রচারকের কাছে একই মূল্যে স্বত্ব বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংস্থাটির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এ চুক্তির আওতায় ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার কথা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। এই অর্থ পরে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজস্ব বণ্টনের মাধ্যমে ভাগ করে দেওয়া হয়। আইসিসির আয় কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো বোর্ডগুলো, যাদের বড় অংশের আয়ের উৎসই আইসিসির রাজস্ব বণ্টন। একই অবস্থায় পড়বে শ্রীলংকা ও নিউজিল্যান্ডও। অন্যদিকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে বিপুল অর্থ আয় করতে পারায় ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক কম হবে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া এই সংকট তাই আর শুধু একটি ম্যাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এটি এখন বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।