বিশ্বের প্রথম জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন বাংলাদেশে

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ | ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

বাংলাদেশে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। একে বিশ্বের প্রথম ‘জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এসব নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো হয় বয়কট করেছে, নয়তো সীমিত অংশগ্রহণ করেছে। ফলে নির্বাচনগুলো প্রতিযোগিতামূলক ছিল না বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। টানা প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। বর্তমানে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থকদের মতে, ২০০৯ সালের পর এবার প্রথম বাংলাদেশে একটি প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সেই জয়ের পথে জামায়াতে ইসলামী একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শেখ হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনকে নির্বাচনী ভিত্তিতে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। রয়টার্স বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছে। তিনি জানান, নির্বাচনে জয়ী হয়ে এককভাবে সরকার গঠনের ব্যাপারে তাঁর দল আত্মবিশ্বাসী। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এশিয়ার দুই পরাশক্তি– চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন পথে যাবে, সেটিও অনেকাংশে এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। রয়টার্স জানায়, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের প্রায় ২৫ শতাংশ তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’। তাদের রাজনৈতিক পছন্দ ও সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে, এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী যে ফলাফলই অর্জন করুক না কেন, তা ঐতিহাসিক হতে পারে। বিভিন্ন জনমত জরিপের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, ১৯৭১ সালের পর অনুষ্ঠিত সব জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে এবারই জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে ভালো ফলাফল করতে পারে।