বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কে কত ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ | ৪:৪০ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২টি আসনে লড়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এর মধ্যে সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। পদাধিকার বলে স্থায়ী কমিটির সদস্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসন ঢাকা–১৭ ও বগুড়া–৬ আসন থেকে ভোট করে দুটিতেই জয় পেয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানী জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়া বগুড়া-৬ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। পদাধিকার বলে স্থায়ী কমিটির সদস্য দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে ৯৭ হাজার ৮১৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন জামায়াত প্রার্থীকে। তিনি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও দলের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ২৮ হাজার ৫৫ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ড. মোশাররফ। ১০৭ টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত বেসরকারী ফলাফলে বিএনপির ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেনের (ধানের শীষ) প্রাপ্ত ভোট ১,০১,৩৯৪ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মনিরুজ্জামান বাহলুলের প্রাপ্ত ভোট (দাঁড়িপাল্লা) ৭৩,৩৩৯। ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজার ২৩৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। বিএনপির মির্জা আব্বাস পোস্টাল ব্যালটের ভোটসহ ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পান। অন্যদিকে, আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী পোস্টাল ব্যালটের ভোটসহ পান ৫৪ হাজার ১২৭টি। ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহীনুর ইসলাম। তিনি ৮২ হাজার ২৩২ ভোট পেয়েছেন। ১৬ হাজার ৫৫৩ ভোটে জয়ী হন বিএনপির এ নেতা। নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ৩৬ হাজার ৮১৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামী মো. আমজাদ হোসাইন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬৮ ভোট। চট্টগ্রাম-১১ আসনে ৩৯ হাজার ৩১৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিকুল আলম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৮১ ভোট। স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কক্সবাজার-১ আসনে ৯৪ হাজার ৪৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট। সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে ৪০ হাজার ৪৩ ভোটে জয়ী হয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৫ ভোট। ভোলা-৩ আসনে ৯৬ হাজার ১১৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)। তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। এ নিয়ে মেজর হাফিজ সপ্তমবারের মতো ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ দলীয় জোটের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদ নিজামুল হক নাঈম ফুলকপি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। দিনাজপুর-৬ (হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ) আসনে ১৫ হাজার ১৬৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৮৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৯ ভোট। স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান নির্বাচন করেননি। জমির উদ্দিন সরকার বয়োঃবৃদ্ধ, রফিকুল ইসলাম শয্যাশায়ী। আর নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেছেন।