মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) তিন উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। ২০০৮ সালের পর ওই আসনটি ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী এ আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১৮ বছর পর বিএনপির প্রার্থী বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এ জয়কে ভূমিধস ও ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এসএ জিন্নাহ কবির ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মো. তোজাম্মেল হক ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩১০ ভোট। প্রায় ৭০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিএনপির এ প্রার্থী জিন্নাহ কবির বিজয় লাভ করেন।
দীর্ঘ ১৮ বছরের বিএনপির পুরাতন প্রার্থী হিসেবে সংখ্যলঘু হিন্দু ভোটাদের মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের প্রার্থী হয়ে ওঠেন। ফলে ভোটব্যাংক বলে খ্যাত তাদের একচেটিয়া ভোট পান তিনি। দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীরা কোমর বেঁধে মাঠে ছিলেন। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলের মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়তার কারণে একচেটিয়া ভোট পান। জিন্নাহ কবিরের জনপ্রিয়তা একদিনে গড়ে ওঠেনি। ২০১৮ সালে তিনি এ আসনে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেন। তার শক্ত প্রতিপক্ষ ছিলেন আওয়ামী লীগের নাঈমুর রহমান দুর্জয়। এরপর থেকে শুরু হয় তার ওপর হামলা-মামলা।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ৩১টি মামলায় আসামি করে। এসব জুলুম-অত্যাচারের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
সাধারণ ভোটাররা জানান, জিন্নাহ কবিরের জনপ্রিয়তা, তার বিগত দিনের সাহায্য-সহযোগিতা ভোটারদের মন কেড়েছেন। এ ছাড়া নদীভাঙন রোধসহ বিএনপি ঘোষিত ৯টি নাগরিক সুবিধা এর মধ্যে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ডের ব্যাপক প্রচার এসব কারণে তারা এবার ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন।