ভেনেজুয়েলায় শত শত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির সম্ভাবনা

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ | ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার একটি ক্ষমা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। যার ফলে শত শত রাজনীতিবিদ, কর্মী, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অচিরেই মুক্তি পেতে পারেন। এই আইনের মাধ্যমে সরকার প্রথমবারের মতো পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে যে দেশে রাজনৈতিক কারণে অনেকে বন্দি রয়েছেন। যা গত কয়েক দশক ধরে অস্বীকার করে আসছিল। খবর আলজাজিরার। এই ক্ষমা আইন স্বাক্ষরিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর সরকারের সাম্প্রতিক সংস্কারের পথে ফেরার একটি অংশ হিসেবে। গত ২৭ বছরে ক্ষমতাসীন দলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া বিরোধী নেতা, কর্মী, মানবাধিকার রক্ষাকর্মী, সাংবাদিকসহ অনেকেই এই আইনের সুবিধাভোগী হতে পারেন। আইনটি ২০০২ সালের স্বল্পকালীন অভ্যুত্থান, ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন মাসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ ও নির্বাচনের সময়কার রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও ‘হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে’ জড়িতদের ক্ষমা প্রদান করবে। পূর্ববর্তী খসড়ায় অবৈধ কার্যকলাপ উসকে দেওয়া, কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা, বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। তবে চূড়ান্ত আইনে নির্দিষ্ট অপরাধের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়নি। আইনটি ২০১৯ সালের ঘটনায় সামরিক বিদ্রোহের অভিযোগে দণ্ডিতদের ক্ষমা প্রদান করবে না। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকৃতদের সম্পদ ফেরত, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ভেনেজুয়েলার বন্দি অধিকার সংগঠন ফোরো পেনালের হিসাব অনুসারে, গত ৮ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪৮ জন মুক্তি পেয়েছেন। তবে রাজনৈতিক কারণে এখনো ৬০০-এর বেশি বন্দি রয়েছেন। বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে আটককেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আগের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। এই আইন স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক সংকটের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বন্দিদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এখনো সন্দিহান রয়েছে যে আইনটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।