নিজের শক্তির ওপর ভরসা রেখেই সাফল্য পেয়েছি: নাহিদ

প্রকাশিতঃ মার্চ ১২, ২০২৬ | ১০:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

লম্বা সময় পর সাদা বলের ক্রিকেটে ফিরেছেন নাহিদ রানা। আর মাঠে ফিরেই চমক উপহার দিয়েছেন এই গতিতারকা। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে। এমন পারফরম্যান্সের পর নাহিদ জানান, নিজের শক্তির ওপর ভরসা রেখেই পেয়েছেন সাফল্য। এছাড়া পিচের আচরণ বুঝতে তাসকিন আহমেদ এবং মুস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। বুধবার (১১ মার্চ) সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এটাকে শুধু হারানো বললে ভুল হবে। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে হারিয়েছে টাইগাররা। ৫০ ওভারের ম্যাচে টাইগারর জয় তুলে নিয়েছে কেবল ১৫ ওভার ১ বলে আর পাকিস্তানকে অলআউট করেছে কেবল ১১৪ রানে। আর এর পুরো কৃতিত্বটাই যায় নাহিদের কাছে। কারণ পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনের প্রথম পাঁচটি উইকেটই নিয়েছেন তিনি। ম্যাচশেষ দলের প্রতিনিধি হয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন নাহিদ। সাফল্যের কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, \'শুরুতে আমি আমার স্ট্রেন্থে থাকার চেষ্টা করি সবসময়। আজকের দিনেও চেষ্টা করছি স্ট্রেন্থ দিয়ে শুরু করার। ব্যাটসম্যানের চেহারা দেখে কিংবা ব্যাটসম্যান আগে থেকে আমি কাকে চিনি কিংবা চিনি না ওইটা দেখিনি। উইকেটে যে জিনিসটা ডিমান্ড করছে আমি ওই সেটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’ পিচ বোঝার ক্ষেত্রে গতকালকের ম্যাচে মুস্তাফিজ এবং তাসকিনের কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছিলেন বলে জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘ফিজ ভাই এবং তাসকিন ভাই বোলিং করতেছিলেন, তাদের সাথে কথা বলছিলাম মাঠের মধ্যে যে উইকেটে কি হচ্ছে সেটা নিয়ে। তারা বলল উইকেটে হিট করলে কিংবা একটা জায়গাতে লাইন লেন্থ মেইনটেইন করলে ব্যাটারদের জন্য খেলা কঠিন। আমি ওই জিনিসটা প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি মাঠে।’ টানা সাত ওভার বোলিং করেছেন নাহিদ। পেসারদের জন্য অনেকসময় তা কঠিন হলেও নাহিদ জানালেন দলের প্রয়োজনেই এমনটা করেছেন তিনি, ‘প্রথমত আমি সবসময় দলের জন্য চিন্তা করি। দল আমার কাছে কী চায়, ওই জিনিসটা আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে সবসময় চেষ্টা করি। আমি তখন উইকেট পাচ্ছিলাম এবং মনে হচ্ছিল আমার বল খেলতে তাদের সমস্যা হচ্ছিল। আমি এই জিনিসটা লম্বা সময় ধরে চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলাম। এর জন্য হয়তো অধিনায়ক হয়তো চেষ্টা করছে, আরো দুই একটা ওভার করানো যায় কিনা।’ এই ম্যাচে নামার আগে দল থেকে নাহিদকে যে বার্তা দেয়া হয়েছিল, ‘তাদের পরিকল্পনা ছিল একটাই, তুমি মন খুলে বোলিং করো এবং তুমি যে জিনিসটা পারো ওই জিনিসটাই মাঠে গিয়ে করো। একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে প্রত্যেকের ফিট থাকা উচিত এবং যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় বোলিং করতে হতে পারে। দল যেটা চায়, সে অনুযায়ী নিজেকে ফিট রাখা উচিত।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগেও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন নাহিদ। মাঝে অনেকদিন লাইন-লেংথের ধারাবাহিকতা নিয়ে মাঝে ভুগেছেন তিনি। এবার আবার পারফর্ম করলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। পাকিস্তানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলেই নিজেকে ফিরে পান কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, ‘কখনোই মনে হয় না যে এই দল দেখলে পারফর্ম করতে হবে। সবসময় চেষ্টা থাকে যে কীভাবে ভালো করা যায় এবং আমার দল কী চাইছে, ওই জিনিসটা আমি করতে পারছি কি না। কখনও হয়, কখনও হয় না। চেষ্টা থাকে সবসময় নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে জেতানোর।’ এর আগে বিপিএলের সময় ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে হওয়া আড্ডা নিয়ে ২৩ বছর বয়সী এই পেসার বলেন, ‘তার (ওয়াকার ইউনিস) সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল, উনি শুধু একটা জিনিসই বলছিল যে তুমি নিজেকে ফিট রাখো এবং তোমার যে শক্তি এই জিনিসটা কখনও হারাতে দিও না। যত ম্যাচ খেলবে তত শিখবে। উনি বলছিল যে আমি তোমাকে এখন যত কিছুই বলি তোমার মাথায় ঢুকবে না, কিন্তু তুমি যদি নিজে জিনিসটা বোঝো বা নিজে করো সেটা তোমার মনে থাকবে।’