মাত্র এক সপ্তাহ আগে জ্বালানি তেলে রেশনিং চালু করার পর সরকার এখন সেই সীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে ঈদযাত্রার বিবেচনায় দূরপাল্লার বাসসহ গণপরিবহনে জ্বালানি তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সীমা রাখা হবে না। গত রাত থেকেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সড়কমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের সীমা আর থাকছে না। ঈদযাত্রায় জ্বালানি তেল কোনো বাধা হবে না।” এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি বৈঠকে সাধারণভাবে তেল কেনার সীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, “সতর্কতা থেকেই রেশনিং করা হয়েছিল। রোববার থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের রেশনিং (সীমা) থাকবে না।”
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পর্যাপ্ত হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ (ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত) এবং হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার কারণে গত মার্চের শুরুতে প্যানিক বাইং এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ভেহিকলের জন্য দৈনিক সীমা নির্ধারণ করে রেশনিং চালু করে – যেমন মোটরসাইকেলে ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার, বাস-ট্রাকে ২২০ লিটার পর্যন্ত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকার বিকল্প উৎস (চীন, ভারতসহ) থেকে ডিজেল আমদানি বাড়িয়েছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এক মাসের মজুদ নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও এক মাসের ব্যবস্থা চলছে। মার্চ মাসে ১৬টি তেলবাহী জাহাজের মধ্যে ইতিমধ্যে কয়েকটি এসেছে, বাকিগুলো আসার পথে।
জ্বালানি বিভাগের দাবি, সরবরাহে কোনো সংকট নেই – রেশনিং ছিল শুধু আগাম সতর্কতা।সংকট কি পুরোপুরি কেটে গেছে?
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন হ্যাঁ, মজুদ পর্যাপ্ত এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলমান থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা রয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বা নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে সংকট ফিরে আসতে পারে। কিছু সূত্রে অভিযোগ উঠেছে যে, সংকট ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে নতুন সরকারকে বিব্রত করার জন্য।
ঈদের আগে এই সিদ্ধান্ত ঘরমুখী মানুষের জন্য স্বস্তির খবর। সরকার জানিয়েছে, দাম বাড়ানো হবে না এবং গণপরিবহনের ভাড়া অপরিবর্তিত থাকবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নির্ভর করবে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির উপর।