শেখ হাসিনার খাদ্য ব্যবস্থাপনা: ইউনূসের পর বিএনপি সরকারও চাহিদা মেটাচ্ছে সেই মজুদে

প্রকাশিতঃ মার্চ ১৬, ২০২৬ | ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালের বস্তার ওপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ও পূর্ববর্তী সরকারের খাদ্য কর্মসূচির উল্লেখ থাকা কিছু ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এসব বস্তা থেকে বিতরণ করা চালকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পর বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকেও এখনো শেখ হাসিনার সরকারের সময় সংগ্রহ করা খাদ্য মজুদ দিয়েই বাজারের চাহিদা সামাল দিতে হচ্ছে। খাদ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বড় পরিসরে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মজুদ করা হয়েছিল। বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি—যেমন ওএমএস, ভিজিএফসহ অন্যান্য কর্মসূচির আওতায় বিতরণের জন্য বিপুল পরিমাণ চাল সরকারি গুদামে রাখা হয়। সেই মজুদের একটি অংশ এখনো বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মরত জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে না হলেও বিভিন্ন আলাপচারিতায় শেখ হাসিনার সরকারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং মজুদের প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনার সরকারের মজুদকৃত চালের বস্তা থেকে তাঁরই নাম মুছে চলছে বিতরণ সম্প্রতি দেশের কয়েকটি এলাকায় বিতরণ করা চালের বস্তায় ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ বা আগের সরকারের কর্মসূচির নাম লেখা দেখা গেছে। এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ নেতারা বলছেন, এটি প্রমাণ করে যে শেখ হাসিনার সরকারের সময় গড়ে তোলা খাদ্য মজুদ এখনো দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে। তবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। শেখ হাসিনার সরকারের মজুদকৃত চালের বস্তা থেকে তাঁরই নাম মুছে চলছে বিতরণ তাদের মতে, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার খাদ্য সংগ্রহ ও আমদানি ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাশিত গতি আনতে পারেনি। ফলে নতুন মজুদ গড়ে তোলার পরিবর্তে আগের সরকারের সময় সংগ্রহ করা খাদ্যশস্যের ওপরই নির্ভরতা বেড়েছে। চালের বস্তায় ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ,’ কর্মকর্তা বললেন ‘রঙ দিয়ে মুছে ফেলা হচ্ছে’ খাদ্য খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের শুরুতে সরকারি খাদ্য গুদামে মজুদ তুলনামূলকভাবে কমে যায়। একই সময় বাজারে চালের দাম বাড়তে থাকায় সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়। এ অবস্থায় গুদামে থাকা পুরোনো মজুদ থেকে খাদ্যশস্য ছাড়ার প্রবণতা বাড়ে। এর মধ্যেই পুরোনো কর্মসূচির বস্তা ব্যবহার হওয়ায় বিষয়টি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি গুদামে চাল ও গম অনেক সময় দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা হয়। সরকারের বিভিন্ন সুরক্ষা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ চালের বস্তা অন্য কর্মসূচিতেও ব্যবহার করা হয়। ১৩ মাসেও শেষ হয়নি শেখ হাসিনার চালের মজুদ: বস্তা দেখে বিরক্ত হয়ে চলে গেলেন ইউএনও তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন সংগ্রহের গতি কিছুটা কম থাকায় পুরোনো মজুদ থেকে সরবরাহের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন, খাদ্য মজুদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যে কোনো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নতুন করে পর্যাপ্ত খাদ্য সংগ্রহ ও আমদানি না হলে মজুদ দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া চালের বস্তার ঘটনাটি মূলত সেই বাস্তবতার প্রতীকী প্রকাশ। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে বর্তমান সরকারকে এখনো আগের সময়ের খাদ্য মজুদের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করতে হচ্ছে, যা খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অন্তর্বর্তী সময়ের দুর্বলতাকেও সামনে এনে দিয়েছে।