কিউবায় আলো ফেরাতে সাহসী পদক্ষেপ রাশিয়ার

প্রকাশিতঃ মার্চ ১৯, ২০২৬ | ৫:৩০ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের কারণে চরম জ্বালানি সংকটে পড়েছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা। এতে রাতের অধিকাংশ সময় অন্ধকারে ঢেকে থাকছে দেশটির বেশিরভাগ এলাকা, লোডশেডিংয়ে নাকাল নাগরিকরা। জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। নানা সংকটে জর্জড়িত কিউবাকে রক্ষায় সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির জন্য পাঠিয়েছে তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজ। এতে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখা দিয়েছে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ডেটা অনুসারে, কয়েক লাখ ব্যারেল রুশ তেল কিউবার দিকে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে এই তেলের চালান যাচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে কমিউনিস্ট শাসিত এই দ্বীপ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে ভুগছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি দখল করে নেওয়ারও হুমকি দিচ্ছেন। সামুদ্রিক চলাচল বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা রুশ ট্যাঙ্কার \'আনাতোলি কোলোডকিন\' গত ৮ মার্চ রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) জিএমটি ১৬টায় জাহাজটি পূর্ব আটলান্টিকে কিউবার পথে ছিল। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় শিপিং কোম্পানি সভকমফ্লট-এর মালিকানাধীন এই রুশ পতাকাবাহী জাহাজ ২৩ মার্চের দিকে দ্বীপের উত্তরে মাতানজাস তেল টার্মিনালে খালাস করার কথা রয়েছে। সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি ‘কিউবা দখলের গৌরব’ অর্জন করবেন বলে আশা করছেন। দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে হাভানার সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই তিনি দাবি করেন যে, তিনি সেখানে ‘যা খুশি তা-ই’ করতে পারেন। গত জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের শত্রু কিউবার ওপর চাপ আরও তীব্র করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প কিউবায় ভেনিজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কিউবার কাছে তেল বিক্রি করা যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তার এই পদক্ষেপের ফলে কিউবা ‘আর কোনো তেল বা টাকা’ পাবে না। কেপলারের তথ্য মতে, হংকংয়ের পতাকাবাহী \'সি হর্স\' নামক আরেকটি ট্যাঙ্কার জানুয়ারির শেষের দিকে সাইপ্রাসের কাছে অন্য একটি জাহাজ থেকে প্রায় ২ লাখ ব্যারেল ডিজেল বোঝাই করেছে। ট্র্যাকারটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জাহাজটি ১৩ ফেব্রুয়ারি ভূমধ্যসাগর থেকে বেরিয়ে আটলান্টিক হয়ে পশ্চিম দিকে যাত্রা করে। ফেব্রুয়ারির শেষ এবং মার্চের শুরুর দিকে এর গতি ধীর হয়ে যায় এবং এটি একটি অনিয়মিত পথ অনুসরণ করে। বুধবার (১৮ মার্চ) জিএমটি ১৬টা৩০মিনিটের দিকে এটি উত্তর-পশ্চিম ক্যারিবীয় অঞ্চলে ছিল, যা কিউবার উপকূল থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে। রুশ পতাকাবাহী \'আনাতোলি কোলোডকিন\' জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি মেক্সিকো থেকে একটি চালানের পর থেকে কিউবা আর কোনো তেল আমদানি করতে পারেনি। মাদুরোর পতনের পর মেক্সিকোকেও এ ধরনের সরবরাহ বন্ধ করতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।