পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেছে। মাসখানেক সময় হাতে থাকলেও ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে এক সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঘিরে আবার সামনে এসেছে কলকাতার ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত একটি ধর্ষণের ঘটনা।
২০২৪ সালের অগাস্টে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারত, সেই চিকিৎসকের মা আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হতে চান।
তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পানিহাটি আসন থেকে লড়তে রাজি হয়েছেন।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে তার প্রার্থিতা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গের ১৫০টি আসনে এখনো বিজেপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়নি – তাদের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা শিগগিরই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ওই শিক্ষানবিশ চিকিৎসক, যিনি পশ্চিমবঙ্গে ‘অভয়া’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন, তার মা বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সাংবাদিকদের বলেছেন, তাকে অনেকবার বিজেপি নেতৃত্ব থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করে যোগাযোগ করা হলেও তিনি প্রথমে রাজি ছিলেন না।
সম্প্রতি বিজেপি নেতা ও সাবেক এমপি অর্জুন সিং অভয়ার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
অভয়ার মা বলেছেন, ‘রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি ও নারী সুরক্ষার অভাব, রাজ্যের মানুষ ভাল নেই। তাই তৃণমূল কংগ্রেসকে সমূলে উপড়ে ফেলতে চাই।’
কিছুদিন আগেই নিজেদের মৃত মেয়ের ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন আরজি কর নির্যাতনের শিকার নারীর বাবা-মা। তারা দাবি করছেন, এই ধর্ষণকাণ্ডে তার মৃত মেয়ে সুবিচার পাননি। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রশাসনকে দায়ীও করেছিলেন তারা।
পাশাপাশি এই গোটা ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়েও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বিজেপির প্রার্থী হতে চান বলে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার নারীর মা সংবাদমাধ্যমকে জানানোর পরেই সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার ২৯৪ আসনের ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণা করেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার ভোট হবে দুই পর্বে: ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। আর ভোট গণনা হবে ৪ মে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে।