পর্যটকদের পদচারণায় মুখর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

প্রকাশিতঃ মার্চ ২২, ২০২৬ | ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন আজ সকাল থেকেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্র সৈকতের প্রতিটি পয়েন্ট। শনিবার ঈদের দিন বিকেলে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সমুদ্র সৈকতে ভিড় করেন পর্যটকরা। বিশেষ করে সৈকতের আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে ভেসে থাকা রংধনু, মেঘ সরে যাওয়ার পর দিনের শেষ বেলার মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত আর হিমেল হাওয়া পর্যটকদের ঈদ আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের একমাস যেন নিস্তব্ধ ছিল সাগর পাড়। তবে ঈদের ছুটি শুরু হতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর ঈদের আনন্দ-দুই মিলিয়ে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর এখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে মানুষের সমাগম। ঈদের আগে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার ঈদে ১০ থেকে ১১ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসতে পারেন এবং প্রায় শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে। সৈকত ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণীসহ প্রতিটি পয়েন্টে মনের মতো সময় কাটাচ্ছেন। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সাথে সমুদ্রস্নান করছেন, পানিতে, জেটস্কিতে চড়ছেন। সাগরের ধারে বাইক আর ঘোড়া রাইড করছেন। সৈকতের বালিয়াড়ি, নীল জলরাশি আর হাওয়ার মিলনে মুহূর্তগুলো যেন আরও আনন্দময় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে। ঢাকার মতিঝিল থেকে আসা পর্যটক রোকসানা রহমান বলেন, ‘আম্মু, বোন আর ভাগনিকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রথমবার কক্সবাজারে এসেছি। তাই ঈদের আনন্দটা যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কক্সবাজারে আজ আমাদের দ্বিতীয় দিন। সামনে আরও এক সপ্তাহ সময় আছে। আশা করছি, এই সময়টাতে সব জায়গা ঘুরে আরও বেশি উপভোগ করতে পারবো।’ রাজশাহী থেকে আসা হেমায়েত হোসেন তালুকদার বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে কক্সবাজার আসা স্বপ্নের মতো। সমুদ্র, পাহাড় আর সবুজ বন সব সত্যিই অসাধারণ। চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে আসা নাজমা আক্তার বলেন, সৈকতে সমুদ্র স্নান ও বাইক ভ্রমণ করে খুব ভালো লাগছে। ঈদের সময় পর্যটকের উপস্থিতি যেমন : বাড়ে, তেমনই নিরাপত্তার ব্যবস্থা দেখেও ভালো লাগছে। সিলেট থেকে আসা উম্মে হাবিবা বলেন, সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্যের কেন্দ্র এই কক্সবাজার। পরিবারসহ এখানে থাকা মানে এক নতুন অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে ছোট শিশুদের সঙ্গে এখানে সময় কাটানো আনন্দদায়ক। টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি টিম ও গোয়েন্দা টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি টিম পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। সৈকতে কর্মরত বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন বলেন, আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। সৈকতে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে সমুদ্র স্নান ও বিনোদন উপভোগ করতে পারেন। কক্সবাজার সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার টিম লিডার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঈদের এ ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করছি এবং পর্যটকদের নিরাপদে সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করছি। কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ঈদের পরদিন থেকেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন এবং এ ধারা টানা প্রায় ১০ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এসময়ে পর্যটন খাত থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা আশা করা যাচ্ছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় জেলা পুলিশের টিম ও বিভিন্ন সাদা পোশাকের টহল দল সক্রিয় রয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।