তেল না পেয়ে পেট্রোল পাম্প কর্মচারীকে মারধর, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিতঃ মার্চ ২৩, ২০২৬ | ৫:১৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

বাগেরহাট শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পেয়ে কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে সদর থানার পাশে শহীদ মিনার এলাকা থেকে ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সুমন পাইক (৪০) বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক। এরআগে রোববার রাতে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সত্ত্বাধিকারী মর্শিদকুলি খান বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় সুমন পাইকসহ চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সত্ত্বাধিকারী মর্শিদকুলি খান অভিযোগ করে বলেন, দেশে জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকদের তেল সরবরাহ চলছে। গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় পৌর যুবদল নেতা সুমন পাইক ও তার অনুসারীরা খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে আসেন। তিনি নিয়ম ভেঙে বেশি তেল নিতে চাইলে পাম্পের কর্মচারীদের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সুমন ও তার অনুসারীরা দুই কর্মচারীকে বেদম মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা তেল বিক্রির নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এতে পাম্পের দুই কর্মচারী গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মর্শিদকুলি খান বলেন, এই ঘটনার পর আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেই। এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে পাম্পের সামনে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২০ মার্চ থেকে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আজকেই পাম্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাগেরহাট সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শহীদুল ইসলাম শেখ দুপুরে বলেন, গত ২০ মার্চ বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে সুমন পাইক ও তার অনুসারীদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পেয়ে পাম্পের দুই কর্মচারীকে মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে চলে যায়। এরপর পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তিনি জানান,এই ঘটনায় রোববার রাতে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সত্ত্বাধিকারী মর্শিদকুলি খান বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় সুমন পাইকসহ চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তাদের অভিযোগ পেয়ে সোমবার রাতে সদর থানার পাশে শহীদ মিনার এলাকা থেকে সুমন নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুমনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।