অ্যাপলের ৫০তম বর্ষপূর্তির আয়োজনের ঘনিয়ে আসেছে। সেই সাথে আলোচনা তীব্র হচ্ছে, কে হবেন সিইও টিম কুকের উত্তরসূরী? এই আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নাম হলো জন টার্নাস। যিনি বর্তমানে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান।
জন টার্নাস বহু বছর ধরে অ্যাপলের মূল পণ্য আইফোন, ম্যাক ও আইপ্যাডের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২১ সালে তিনি অ্যাপলের শীর্ষ হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং রোলে যোগদানের পর থেকে পণ্যের মান ও কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। ব্যাটারি লাইফ, পারফরম্যান্স এবং কানেক্টিভিটিতে উন্নতি ঘটিয়ে তিনি অ্যাপলের পণ্যের লাইনআপকে শক্তিশালী করেছেন।
টার্নাস সম্প্রতি একটি গোপন রোবট প্রজেক্টের তত্ত্বাবধান নিয়েছেন। এই প্রকল্পে এমন একটি টেবিলটপ ডিভাইস তৈরি হচ্ছে যা ‘ফেস টাইম’ কলের সময় ঘুরে ঘুরে বক্তার দিকে মনোযোগ দেয়। আশা করা হচ্ছে, এটি আগামী বছর বাজারে আসবে।
তিনি শুধু পণ্য তৈরি ও প্রযুক্তি উন্নয়নে নয়। পণ্যের মার্কেটিং ও ওয়েবসাইট কনটেন্ট নিয়েও সরাসরি কাজ করছেন। এছাড়া তিনি অ্যাপলের ডিভাইসগুলোকে আরও পরিবেশবান্ধব করার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
জন টার্নাস বর্তমানে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ডিজাইন টিমের তত্ত্বাবধান করছেন। ফলে তিনি ডিজাইন ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের মধ্যে প্রধান সংযোগকারী হিসেবে কাজ করছেন। এর কারণে তাকে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে দেখা হয়।
টার্নাস আইফেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রিভ্যাম্প প্রকল্প নিয়েও কাজ করছেন। যার মধ্যে ফোল্ডেবল আইফোন রয়েছে। এটি সম্ভবত এই বছরের মধ্যে বাজারে আসবে।
অ্যাপলের ভেতরে তিনি সহকর্মী ও সিনিয়র লিডারদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তার শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব অনেকটা টিম কুকের মতো। জন টার্নাস প্রোডাক্টের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং অ্যাপলকে তার মূলধারার মানের দিকে ফিরিয়েছেন।
অ্যাপল বর্তমানে এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে আছে। টার্নাস ইতিমধ্যে এআই-পাওয়ারড ডিভাইস ও নতুন হার্ডওয়্যার ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা সময়ই দেখাবে।
জন টার্নাসকে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ সিইও হিসেবে দেখা হচ্ছে তার প্রযুক্তি দক্ষতা, নেতৃত্ব, ডিজাইন ও পণ্যের মান উন্নয়নের জন্য। যদিও চ্যালেঞ্জ আছে, তার ভেতরের সম্মান ও অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বের জন্য প্রধান প্রার্থী বানিয়েছে।