পিঠব্যথা এখন খুব সাধারণ একটি সমস্যা। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার, ঠিকভাবে না বসা, এসব কারণেই অনেক সময় পিঠে ব্যথা হয়। তাই বেশির ভাগ মানুষই এটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, সব পিঠব্যথা একই কারণে হয় না। কখনো কখনো এটি গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে, যেমন স্পাইনাল টিবি।
স্পাইনাল টিবি হলো যক্ষ্মার একটি ধরন, যা মেরুদণ্ডে আক্রমণ করে। সাধারণত যক্ষ্মা ফুসফুসে হয়। তবে সেই জীবাণু রক্তের মাধ্যমে শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। যখন এটি মেরুদণ্ডে পৌঁছায়, তখন তাকে স্পাইনাল টিবি বলা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি মেরুদণ্ডের ক্ষতি এমনকি স্থায়ী অক্ষমতার কারণ হতে পারে।
এই রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শুরুতে এর লক্ষণ খুব স্পষ্ট থাকে না। ধীরে ধীরে লক্ষণ দেখা দেয়, তাই অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না।
সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো দীর্ঘদিন ধরে পিঠে ব্যথা থাকা। এই ব্যথা সহজে কমে না। বিশ্রাম নিলেও বা সাধারণ ব্যথার ওষুধ খেলেও তেমন উপকার হয় না। অনেক ক্ষেত্রে রাতে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়, যা সাধারণ পেশির ব্যথা থেকে আলাদা।
এর পাশাপাশি অনেক সময় শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়। ভালোভাবে ঘুমানোর পরও দুর্বল লাগে। আবার হালকা জ্বরও থাকতে পারে, বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে। এই জ্বর অনেক সময় আসে-যায়, তাই অনেকেই গুরুত্ব দেন না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া। কোনো ডায়েট বা জীবনযাত্রার পরিবর্তন ছাড়া যদি ওজন কমতে থাকে, তবে সতর্ক হওয়া দরকার। একই সঙ্গে ক্ষুধাও কমে যেতে পারে।
রোগটি বাড়তে থাকলে মেরুদণ্ডে প্রভাব পড়ে। তখন শরীর শক্ত হয়ে যায়, সহজে বাঁকানো বা ঘোরানো যায় না। দীর্ঘ সময় বসে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে পিঠ সামনের দিকে বাঁকা হয়ে যেতে পারে, যাকে কুঁজো হওয়া বলা হয়।
সবচেয়ে জটিল অবস্থা তৈরি হয় যখন এই সংক্রমণ স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে। তখন পায়ে ঝিনঝিনি, অবশ ভাব বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। হাঁটতে সমস্যা হতে পারে, ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি মল-মূত্র নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, অপুষ্টি আছে, ডায়াবেটিস রয়েছে বা আগে যক্ষ্মা হয়েছে। তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
চিকিৎসকেরা বলছেন, পিঠব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া দরকার। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে স্পাইনাল টিবি ভালো হয়ে যায় এবং বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
তাই পিঠব্যথাকে শুধু সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে, লক্ষণগুলো বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।