ভাঙা সম্পর্কের পরে অনেকেই নতুন কারো সঙ্গে যেতেই চান। মনে হয়, হয়তো এতে ব্যথা কমবে। কিন্তু বাস্তবে রিবাউন্ড সম্পর্ক সঠিক সমাধান নয়। এটি শুধু সাময়িক ভাবে আপনাকে ভালো রাখবে। কিন্তু সত্যিকারের সুখী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
রিবাউন্ড সম্পর্ক হলো পুরনো সম্পর্কের ঠিক পরে নতুন কারো সঙ্গে থাকা। মূলত এখানে নতুন মানুষটা নয়। বরং নিজের ক্ষত ঢাকার চেষ্টা বা ব্যথা ভুলে যাওয়ার উপায়। সহজ ভাবে বললে বোঝায়, নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা যে ‘আমি ঠিক আছি।’ তবে এটা মোটেও ভালো নয়।
সম্পর্ক ভাঙার পরে নিজেকে সময় দিতে হয়। ব্যথা অনুভব করতে হয়, সবটা হজম করতে হয়। যদি এই সময় না নেন, তাহলে পুরনো অনুভূতিগুলো ফিরে আসে। নতুন কারো সঙ্গে থাকা মানে আগের সম্পর্কের সাথে তুলনা করা। যেমন, ‘আমার সাবেক যেমন হাসত, ও তেমন হাসে না।’ এই তুলনা আপনাকে পুরনো সম্পর্কের মধ্যে আটকে রাখে।
রিবাউন্ড সম্পর্ক শুধু আপনার জন্য নয়, নতুন মানুষটার জন্যও সমস্যা তৈরি করে। আপনি যদি এখনও আগের সম্পর্কের আবেগে বেঁধে থাকেন। তবে নতুন পার্টনারকে ঠিকমতো ভালোবাসা দিতে পারবেন না। সে বিভ্রান্ত হবে। এক সময় তার মনে হতেই পারে যে, সে ব্যবহার হচ্ছেন। এটি একদমই ঠিক নয়।
পুরনো ভুল বা খারাপ অভ্যাস নতুন সম্পর্কেও ফিরে আসে। সম্পর্ক ভাঙা মানে হলো নিজেকে বুঝার সুযোগ। কিন্তু রিবাউন্ড সম্পর্কতে আপনি সেই সুযোগটা পাবেন না।
রিবাউন্ড করলে আমরা অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাই, সান্ত্বনা বা আত্মবিশ্বাসের জন্য। এতে ভবিষ্যতে আরও হৃদয়ভাঙতে পারে। ভালো সম্পর্কের জন্য দরকার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকা। অন্য কারো ওপর ভরসা করা নয়।
নিজেকে সময় দিন, ব্যথা অনুভব করতে দিন। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। পরিবারের কাছে থাকুন। নতুন কিছু শিখুন, নিজের পছন্দে ব্যস্ত থাকুন। প্রয়োজনে প্রফেশনালের সঙ্গে কথা বলাও সাহায্য করতে পারে।
রিবাউন্ড সম্পর্ক যতই সহজ মনে হোক, সত্যিকারের সুস্থ হওয়ার জন্য সময় দরকার। ব্যথার মুখোমুখি হওয়া কঠিন। কিন্তু এটাই আপনাকে দ্রুত সুস্থ করে। নিজের সেরে ওঠার দিকে মন দিন। তারপরই আসল ও সঠিক সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত হবেন।