ইয়াজউদ্দিনের বাসায় বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা গোয়েন্দা নজরদারিতে

প্রকাশিতঃ মার্চ ২৮, ২০২৬ | ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের বাসায় অনুষ্ঠিত এক আলোচিত ‘চা-চক্র’ ঘিরে নতুন করে তৎপর হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে রিমান্ডে থাকা সাবেক প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য মিলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে, ২০০৭ সালের ‘এক-এগারো’ পর্বে জড়িত সামরিক ও বেসামরিক কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইয়াজউদ্দিনকে চাপ দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাতেও নতুন করে তথ্য মিলছে। ঘটনার দিন তার বাসায় অনুষ্ঠিত চা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও ছিলেন। সেখানে তৎকালীন তিন বাহিনীর প্রধানসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অংশ নেন বলে জানা গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং এক-এগারোর পটপরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এখনো দেশে আছেন, তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ইতোমধ্যে সামরিক ও বেসামরিক বেশ কয়েকজনের একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ ইয়াজউদ্দিনের বাসায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং সেদিন উপস্থিত অন্যদের সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন। যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন, তদন্তকারীদের মতে তার দেওয়া কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকর। বিস্তারিত অনুসন্ধানে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) উদ্যোগ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, এক-এগারো সময়কালে পেছন থেকে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অন্যতম হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালানো এবং তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এমনকি দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘মাইনাস-টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করেছিলেন। সম্প্রতি মানব পাচার মামলায় রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। আদালত ওই মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানি লন্ডারিং, মানব পাচার ও প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ডিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।