পাটুরিয়ায় ফেরিতে আগুন, যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

প্রকাশিতঃ মার্চ ২৮, ২০২৬ | ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীবোঝাই রোরো ‘কেরামত আলী’ ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পাটুরিয়া ৪ নম্বর ঘাটে ফেরির সাইলেন্সর পাইপের ছিদ্র দিয়ে কার্বন জমে মুহূর্তের মধ্যে আগুন বের হতে থাকে। পরে ফেরি স্টাফ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অল্প সময়ে মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় আগুনের স্ফুলিঙ্গের সাথে কালো ধোঁয়া পাইপ থেকে বের হতে দেখে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত ফেরিটি পন্টুনে ভিড়িয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের নামানো হয়। তবে ফেরি কর্তৃপক্ষ বলছে, এ রকম সাইলেন্সর পাইপে আগুন লাগার ঘটনা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা মাঝে মাঝেই হয়ে থাকে। কিন্তু আজ ওই ফেরিতে আগুন স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেরিটি পাটুরিয়া ৪ নম্বর ফেরি ঘাট থেকে যানবাহন ও যাত্রীবোঝাই করে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় কয়েকশ গজ যাওয়ার পরে নিচের সাইলেন্স পাইপের ছিদ্র দিয়ে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে থাকে। সাথে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। এ সময় ফেরিতে থাকা যানবাহন চালকরা আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। এ সময় ঘাটে ফেরি ভিড়িয়ে যানবাহন নামানোর পাশাপাশি ফেরিতে থাকা হুস পাইপ দিয়ে সাইলেন্স পাইপে পানি দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন নিভিয়ে ফেলে। বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুবেলুজ্জাম উদ্দিন বলেন, ‘ফেরিটির ইঞ্জিন দুস্টোকের হওয়ায় লুবয়েল মবিল ছিটে সাইলেন্স পাইপে জমে যায়। পরে কার্বন জমে হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায়। একবার এ পাইপে আগুন লাগলে পরে আর কয়েক বছর লাগে না। বেশি আগুন লাগার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ফেরিটিকে ভাসমান কারখানা মধুমতিতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা চেক করে পরে বিস্তারিত জানতে পারব।’ শিবালয় স্টেশনের ফায়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানান, আগুনের খবর পেয়ে ফেরির স্টাফ আর আমরা মিলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন নিভিয়ে ফেলি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ‘ফেরিতে আগুন লাগার বিষয়টি সিরিয়াস কিছু না। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে আজকে কেন সাইলেন্স পাইপে কার্বন জমে এত বেশি আগুন বের হলো, বিষয়টি আমাদের ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ খতিয়ে দেখবে।’