যুক্তরাজ্যের পর এবার আজহারীকে ‘চরমপন্থী ইসলামি বক্তা’ আখ্যায় অস্ট্রেলিয়া থেকেও বহিষ্কার

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১, ২০২৬ | ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

দ্য ডেইলি মেইল-এ প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, ইহুদিদের বিরুদ্ধে অ্যাডলফ হিটলারকে ‘ঈশ্বরীয় শাস্তি’ হিসেবে প্রশংসা করা মিজানুর রহমান আজহারীকে উগ্র ও চরমপন্থী ইসলামি বক্তা আখ্যা দিয়ে তার সফরের মাঝপথে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্ট বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর অনলাইন ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি (১০ মিলিয়ন)। তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা ডায়াসপোরা সম্প্রদায়গুলোতে নিয়মিত বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। ডেইলি মেইল প্রথম এই ঘটনাটি প্রকাশ করে। আজহারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ইস্টারের সময় ‘Legacy of Faith’ সিরিজের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফর করছিলেন। তার সফরসূচিতে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ক্যানবেরায় বক্তৃতার কথা ছিল। জানা গেছে, মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ডিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যে আজহারীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশেও জনসমক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল চরমপন্থী ঘৃণামূলক প্রচারের অভিযোগে। লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বুধবার সিনেটে বলেন, তিনি এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যরা সম্প্রদায়ের গ্রুপগুলোর কাছ থেকে আজহারীর আগমন সম্পর্কে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ’সহ বিভিন্ন গ্রুপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যদের কাছে যোগাযোগ করেছিল। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক বক্তৃতায় আজহারী ইহুদিবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি-গণহত্যার প্রশংসা করেন, ইহুদিদের অমানবিকভাবে বর্ণনা করেন এবং শ্রোতাদের তাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের অফিসকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের নেতারাও বলছেন, এমন ব্যক্তিকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়াই ছিল বড় ভুল। (সূত্র: ডেইলি মেইল, ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া রিপোর্ট, ১ এপ্রিল ২০২৬)