দেশ-জাতির সাথে বেইমানি করা মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর ভোটার তালিকা থেকে বাদ

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১, ২০২৬ | ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

বাংলা ভাষায় বেইমান শব্দের প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে ‘মীর জাফর’ শব্দটি। বাংলার স্বাধীনতা বেহাত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইতিহাসে মীর জাফর নামটি কলঙ্কিত হয়ে রয়েছে ১৭৫৭ সালের পর থেকে। মীর জাফরের বংশধররাও ঘৃণিত সমানতালে। এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় বাংলার সাবেক নবাব মীর জাফরের পরিবারের ৩৪৬ সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানা গেল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে পরিবারটির দাবি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে– সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধনী’ (এসআইআর) কার্যক্রমের পর প্রথমে তাদের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়। পরে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায়, পরিবারের কয়েকশ সদস্যের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তারা নিয়মিত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ‘ছোট নবাব’ নামে পরিচিত সৈয়দ রেজা আলী মির্জা অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, শুধু তার নয়, পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। এমনকি তার ছেলে, যিনি একজন জনপ্রতিনিধি, তাকেও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের আরেক সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মির্জা জানান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাদের নাম ছিল। হঠাৎ করে নাম বাদ দেওয়ার কারণ তারা বুঝতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্রের দাবি, দেশ-জাতির সাথে বেইমানি করায় তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এখনো এ ব্যাপারে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দেশভাগের সময় তাদের পূর্বপুরুষ ওয়াসিফ আলি মির্জা ভারতেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি মুর্শিদাবাদকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখতে তাদের পরিবারের ভূমিকা ছিল বলেও তারা দাবি করেন। অতীতে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতও তাদের বংশপরিচয় স্বীকৃতি দিয়েছে বলে দাবি তাদের। এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী ২৩শে এপ্রিল মুর্শিদাবাদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে চলতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।