বর্তমানে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অনেকেই নতুন ধরনের ওষুধের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে সেমাগ্লুটাইড বা তিরজেপাটাইড। যেগুলো বাজারে ওজেম্পিক ও মোঞ্জারো নামে বেশি পরিচিত। এসব ওষুধ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো কোনো ‘ম্যাজিক সমাধান’ নয়। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে জীবনধারার পরিবর্তনও সমান জরুরি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ওজন কমানোর এসব ওষুধ মূলত শরীরের ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। এগুলো শরীরে এমন হরমোনের মতো কাজ করে, যা মস্তিষ্ককে জানায় যে পেট ভরে গেছে। ফলে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায় এবং ধীরে ধীরে ওজন কমতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে ৭২ সপ্তাহে ১৪ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ওজন কমার ফল পাওয়া গেছে। তবে প্রায় ১০–১৫ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে তেমন ফল পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর এই ওষুধ ব্যবহার শুরু করলে অনেক সময় দীর্ঘদিন তা চালিয়ে যেতে হয়। কারণ বেশিরভাগ মানুষ ওষুধ বন্ধ করার পর আবার দ্রুত ওজন বাড়তে দেখেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধ বন্ধ করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওজন বাড়তে শুরু করতে পারে এবং এক বছরের মধ্যে হারানো ওজনের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে আসতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা। কম ক্ষুধা লাগার কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে ভুলে যান। যা দীর্ঘমেয়াদে পেশি ক্ষয়, দুর্বলতা বা পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল গ্রহণ করা জরুরি।
ওজন কমানোর ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এর মধ্যে বমি বমি ভাব, হজমের সমস্যা, গলস্টোন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের ঝুঁকিও দেখা গেছে। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে পেশি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তবে গবেষণায় কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব ওষুধ হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, ভালো ঘুমে সহায়তা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ীভাবে সুস্থ থাকতে হলে ওজন কমানোর ওষুধকে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং দীর্ঘমেয়াদি জীবনধারার পরিবর্তন—এই তিনটির সমন্বয়েই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।