৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বন্ধ হওয়া শিল্পকারখানা ফের চালু হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৪, ২০২৬ | ১০:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

২০২৪-এর ৫ই আগস্টের পর বন্ধ হওয়া দেশের সব শিল্পকারখানা ফের চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ ৪ঠা এপ্রিল, শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে, তা চালু করা হবে।’ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সব দেশেই অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তা মোকাবিলায় উন্নয়ন বাজেটে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশজনিত যেসব প্রকল্প দেশে চলমান আছে, সেগুলোতে আর্থিক সহায়তা করবে সংস্থাটি।’ এদিকে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ে তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা বেশ কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়েছে, বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে। একই দিন বিকেলে সচিবালয়ে ডিজেল ও অকটেন আমদানির জন্য জরুরি বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের জন্য বিরোধী সকল পক্ষের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিল আন্দোলনকারী উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে ছিল দাগী অপরাধী ও সন্ত্রাসীরাও। আওয়ামী লীগের দোসর ট্যাগ দিয়ে অসংখ্য বৃহৎ কারখানা, রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায় এবং আন্দোলনে হামলার অজুহাত তুলে অসংখ্য শিল্পগোষ্ঠীর কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি মালিকপক্ষের লোকজনকে ভুয়া মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। যার বিরূপ প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। অন্তত ৪ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন শিল্পে সম্পৃক্ত ও পরোক্ষ বাণিজ্যে যুক্ত অর্ধকোটি মানুষ কর্মহীন হয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এলসি বন্ধ করে দেওয়া, কাঁচামাল আমদানি বন্ধ, জ্বালানি সংকট। সবমিলে দেশের অর্থনীতি চরম সংকটে পড়ে যায় ২০২৪-এর ৫ই আগস্টের পরবর্তী সময় থেকে। যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি এখনো।