নিজের গাড়ি বাসস-এ ভাড়ায় খাটিয়ে প্রতি মাসে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৪, ২০২৬ | ১০:০৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিজের মালিকানাধীন গাড়ি একটি ভাড়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাসসকে দিয়ে মাসে দেড় লাখ টাকা নেওয়ার ঘটনা, যা স্বার্থের দ্বন্দ্বের সুস্পষ্ট উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নথিপত্র অনুযায়ী, মাহবুব মোর্শেদের ব্যক্তিগত টয়োটা এলিয়ন গাড়িটি একটি রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠানের নামে বাসসের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তিতে যুক্ত করা হয়। এ বাবদ মাসে দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা জ্বালানি, চালকসহ অন্যান্য ব্যয়সহ ২৪ ঘণ্টা ও সপ্তাহে সাত দিন ব্যবহারের শর্তে দেওয়া হতো। অথচ বাসসের নিজস্ব গাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের গাড়িই নিয়মিত ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি গাড়ি বাসসে ভাড়ায় চললেও সেটির মাসিক ভাড়া মাত্র ৭০ হাজার টাকা, যা মাহবুব মোর্শেদের ব্যবহৃত গাড়ির ভাড়ার তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এতে ভাড়া নির্ধারণে অস্বাভাবিকতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠানের মালিক আবদুল কাদের দাবি করেছেন, দেড় লাখ টাকার পুরো অর্থই মাহবুব মোর্শেদ গ্রহণ করতেন। তাঁর ভাষ্য, “এমডি যদি নিজের প্রভাব খাটিয়ে এভাবে গাড়ি চালাতে বলেন, তখন আমার কিছু করার থাকে না।” এদিকে মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি নিজেই নিজের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করেছেন। এমডি পদে নিয়োগের সময় কোনো নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো না থাকলেও পরবর্তীতে তিনি নিজ উদ্যোগে চুক্তি করে প্রায় দুই লাখ টাকার বেতন-ভাতা নির্ধারণ করেন। এর বাইরে বিভিন্ন বিলের নামে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া পদ না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়া, কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত কমিটির কাছে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর তদন্তে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করলেও এখনো সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তবে অভিযোগ ওঠার কিছুদিনের মধ্যেই মাহবুব মোর্শেদ পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব মোর্শেদ সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, “এ রকম কিছু ঘটে নাই।” তবে বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থেকে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুতর অনিয়মের শামিল এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।