বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে, সীমান্তে উত্তেজনা

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৬, ২০২৬ | ৬:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক মিজানুর রহমান মিজান (২০) আহত হয়েছেন। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী সীমান্তের ওপাশ থেকে ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে (৪০) দুটি গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে ধরে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তের শূন্যরেখায় অসংখ্য বিএসএফ সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। এতে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকার বসতবাড়ির নারীরা বাড়িঘর ছেড়ে শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। আহত মিজান গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে সহদেব বর্মণ ভারতের কোচবিহারের কুচলিবাড়ী থানার ৯৪ ফুলকাডাবরী এলাকার হরেন্দ্র নাথ বর্মণের ছেলে। বিজিবি, সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ভারতের কোচবিহার রাজ্যের কুচলিবাড়ী থানার ফুলকাডাবরী গ্রামের ডাঙিরটারী সীমান্তের বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৬ নম্বরের ১ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার অপর দিকে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকা। এই পিলারের ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে শূন্যরেখার দুই দিকের নিজেদের জমি চাষাবাদ করেন উভয় দেশের কৃষকেরা। আজ সকালে নিজেদের ভুট্টাখেতে পরিচর্যার পাশাপাশি ঘাস আনতে যান কৃষক মিজান। এ সময় ভারতের মেখলিগঞ্জ ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোমতি ক্যাম্পের টহল দলের একজন সদস্য মিজানকে ডেকে একটি ভুট্টার মোচা দেখতে চান। মিজান ভুট্টার মোচাটি দেওয়ার সময় পাশে থাকা অপর একজন বিএসএফ সদস্য তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে মিজানের ডান কাঁধে গুলি লাগে। অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া মিজান হামাগুড়ি দিয়ে ভুট্টাখেত হয়ে আসার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে রংপুরে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পাশাপাশি এলাকার বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৮ নম্বরের ৩ থেকে ৪ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার জমি চাষাবাদ করতে থাকা ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে দুটি গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে ধরে নিয়ে আসে। এ ঘটনার পরপরই শূন্যরেখার প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অসংখ্য বিএসএফের সদস্য অস্ত্র হাতে অবস্থান নেন। এতে সীমান্তে আতঙ্ক ও উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১-এর (তিস্তা-২) ধবলসুতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার বাদশা মিয়া বিএসএফের ওই ক্যাম্পের কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর উভয় ক্যাম্পের কমান্ডার ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলেন। সুবেদার বাদশা মিয়া এ ব্যাপারে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি। ভারতীয় নাগরিক সহদেব বর্তমানে ধবলসুতি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। বিজিবি জানিয়েছে, দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে বিএসএফ-বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিজিবির ৬১-এর (তিস্তা-২) অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিমের সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি। বিজিবির ৬১-এর (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) মেজর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। আমরা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। পতাকা বৈঠকের পর বিস্তারিত বলতে পারব।’