সরাইলে চিকিৎসক বদলি ঘিরে উত্তাল জনমত, উপস্থিতি বিতর্কে নতুন প্রশ্ন—মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ।

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১০, ২০২৬ | ১১:০০ অপরাহ্ণ
মো: রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বিতর্ক, সিসিটিভি ফুটেজে অসঙ্গতি এবং এক চিকিৎসকের বদলিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জনমত ও প্রশ্নের ঝড়। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ ও উচালিয়াপাড়া মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি প্রায়ই দেরিতে আসেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। যদিও এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিটের মধ্যেই অফিসে উপস্থিত হন। তবে তার এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় উক্ত সময়ে তার উপস্থিতির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও বায়োমেট্রিক হাজিরা সম্পন্ন করার অভিযোগও উঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় এক চিকিৎসকের বদলি। অভিযোগ উঠেছে, যাকে কেন্দ্র করে মূল বিতর্ক—তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুলকে বদলি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও সরবরাহের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘অন্যায় বদলি’ অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী মানববন্ধনের ডাক দেয়। আজ অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রোগী-স্বজনসহ সচেতন নাগরিকরা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল জব্বার, সরাইলের সুপরিচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দেলোয়ার উদ্দিন, ছাত্রনেতা শিবলী সাদিকসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করে ভিন্ন চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা দ্রুত এই বদলি আদেশ প্রত্যাহার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে আলোচিত ঘটনার সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে আনা এখন সময়ের দাবি।