ইরানের দাবি- জব্দ অর্থ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র, অস্বীকার ওয়াশিংটনের

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১১, ২০২৬ | ৬:১২ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় সমঝোতায় পৌঁছাতে এটি ‘গুরুত্বপূর্ণ আন্তরিকতার’ লক্ষণ বলে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের এই দাবিকে দ্রুত অস্বীকার করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি সূত্র বলেন, ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রটি জানান, এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং এটি তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। আরেকটি ইরানি সূত্রের দাবি, প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। ৬০০ কোটি ডলারের এই অর্থ ২০১৮ সালে প্রথম জব্দ করা হয়। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এটি ছাড়ের কথা ছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস হামলার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন আবারও তহবিলটি স্থগিত করে। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, নিকট ভবিষ্যতে এই অর্থে ইরানের প্রবেশাধিকার থাকবে না। তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে পুরো হিসাবটিই সম্পূর্ণভাবে জব্দ রাখার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে। এই তহবিলের উৎস দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির অর্থ। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। একই সময়ে তিনি বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে করা চুক্তিও বাতিল করেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দোহার মধ্যস্থতায় হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। ওই বন্দিবিনিময়ের অংশ হিসেবে ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচ ইরানিকেও ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এই তহবিল ছাড়ের শর্ত যুক্ত ছিল। তখন মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এই অর্থ শুধু মানবিক খাতে ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য অনুমোদিত সরবরাহকারীদের কাছে এই অর্থ বিতরণ করা হবে। আলোচনায় অনিশ্চয়তা বর্তমানে ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতির কারণে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরস্পরবিরোধী দাবি চলমান কূটনৈতিক আলোচনার জটিলতাই তুলে ধরে। সূত্র: রয়টার্স