আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি: হুন্ডি, অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার বেড়েছে দেশে

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৩, ২০২৬ | ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

বাংলাদেশে সংঘবদ্ধ অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ‘গ্লোবাল অর্গানাইজড ক্রাইম ইনডেক্স-২০২৫’ অনুযায়ী, ১৯৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৯তম থেকে উঠে ৮৩তম হয়েছে। এই অগ্রগতি আসলে অপরাধ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে দেশ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় হুন্ডি ও অবৈধ মুদ্রা পাচার বেড়েছে। মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তে ঘাসের বস্তায় ডলার পাচারের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা আর্থিক নিরাপত্তার দুর্বলতা প্রকাশ করে। বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি খাতে আর্থিক জালিয়াতি ও ক্ষমতাচ্যুত গোষ্ঠীর অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে। মানবপাচারের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক। নারী ও শিশুদের যৌন শোষণ ও জোরপূর্বক শ্রমে পাঠানোর ঘটনা বেড়েছে। অনেককে ভুয়া বিয়ে বা বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু ও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের প্রবেশও বেড়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব অপরাধের সূচক প্রায় ০.৫০ করে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাজারে নকল পণ্যের সরবরাহও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারে ব্যস্ত থাকায় অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে তিনি আশা করেন, বর্তমান সরকার পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, এখন সংঘবদ্ধ অপরাধ আরও পেশাদার ও শক্তিশালী চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো দমনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও নিরপেক্ষ আইনের প্রয়োগ জরুরি। পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, সূচকের পরিবর্তন মানেই শুধু অপরাধ বৃদ্ধি নয়; এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী মূল্যায়ন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধী চক্র শনাক্তে কাজ চলছে।