বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
শুভেচ্ছা বার্তার শুরুতে তিনি কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, “মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।” এরপর তিনি সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “বাঙালির জাতীয় ঐতিহ্যের প্রধান উৎসব বাংলা নববর্ষ। এদিন নতুনের বার্তা নিয়ে দুঃখ, জরা, ব্যর্থতা ও মলিনতা ভুলে সবাই জেগে ওঠে আনন্দে। ফসলি সন হিসেবে মোঘল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা আজ সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতির এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে।”
একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এটি এখন বৈশ্বিক বাঙালির প্রাণের উৎসব।”
ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পরাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানি সরকার বাঙালিকে শেকড়চ্যুত করার কৌশল হিসেবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বাধা দিয়েছিল। বাধা দিয়েছিল বাংলা ভাষার প্রধান লেখক বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম শতবর্ষ উদযাপনেও।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ হয়ে ওঠে বাঙালির জাতীয় জাগরণ ও বাংলাদেশের মানুষের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক।”
মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন বিশ্ব-ঐতিহ্যের অংশ। আওয়ামী লীগ সরকারের চেষ্টায় ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আমাদের সরকার চাকরিজীবীদের ‘বৈশাখী ভাতা’ চালু করে।”
সমালোচনার সুরে তিনি বলেন, “আমরা দেখছি, স্বাধীনতাবিরোধী ও অসাংবিধানিক সরকার বাঙালির এই উৎসবকে ধ্বংস করতে তৎপর ছিল, যা এখনও চলমান। তারা মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।”
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তৎকালীন বাংলার নতুন ফসল ঘরে তোলার সূত্র ধরে আবহমান কাল ধরে গড়ে ওঠা লোকজ ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে কৃষিভিত্তিক সমাজের অর্থ বর্ষ গণনাই কালক্রমে নতুন বছরের উৎসব হয়ে ওঠে।”
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তিনি উল্লেখ করেন, “চীন, ইরানসহ দেশে দেশে নতুন বছরের উৎসবই দেশের প্রধান উৎসব হয়ে আছে।”
তিনি যোগ করেন, “বৈশাখী উৎসব এই নৃতাত্ত্বিক ধারারই আরেকটি স্মারক।”
ধর্মীয় বিভাজনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ধর্মকে পুঁজি করে এই উৎসবকে বাধাদান ভেদবুদ্ধিরই নামান্তর।”
শেষাংশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি বৈশাখী উৎসব উদযাপনের অগ্রযাত্রায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ফিরবে।”
তিনি আবারও বলেন, “সবাইকে আবারো নববর্ষের শুভেচ্ছা।” এবং স্লোগানে বলেন, “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।” পাশাপাশি তিনি কামনা করেন, “আঁধার কেটে ভোর হোক, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”