২০২৬ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ দেখা যায়নি

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬ | ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

২০০৮ সালের পর ২০২৬ সালে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই নির্বাচনে তারা কোনো ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ দেখেনি। তারা নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৯টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ছয়টি সুপারিশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব সুপারিশ করেন ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল। ফলাফল প্রাথমিক ও চূড়ান্তভাবে প্রকাশ নিয়ে কোনো অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিল না। তিনি আরও বলেন, প্রার্থীরা স্বচ্ছভাবে প্রচারণা চালাতে পেরেছেন। যে কোনো রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সংলাপের যথেষ্ট সুযোগ ছিল। যখনই কোনো অভিযোগ এসেছে বা নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো সংকট তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সমাধান করা হয়েছে। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে আরও কাজ করতে হবে বলে জানান ইভার্স ইজাবস। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং আমাদের চোখে পড়েনি। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে। ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও ভালো নির্বাচনের জন্য ১৯টি সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তার মধ্যে ৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলে-সংসদীয় নির্বাচন পরিচালনাকারী আইনি কাঠামো সংশোধন করা, যাতে অসংগতি ও ফাঁকফোকর দূর করা যায়। বিভাজন কমানো যায়, আইনি নিশ্চয়তা জোরদার করা যায় এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও নিবিড় সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা যায়। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ভোট গণনার সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেমন স্ক্রিনে ডেটা এন্ট্রি প্রদর্শন এবং সম্পূর্ণ প্রাথমিক ও চূড়ান্ত নির্বাচনি ফলাফল অনলাইনসহ দ্রুত প্রকাশ করা। ২০৩০ সালের মধ্যে সব রাজনৈতিক দল যেন কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার লক্ষ্য অর্জন করে তা নিশ্চিত করার জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আরপিওর ধারা বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে এটি সংশোধন করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলকে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বাধ্য করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। তথ্যগত ও নির্বাচনি সততা রক্ষার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক আইনি বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ সংশোধন করে একটি অধিকতর নিরাপদ ও স্বচ্ছ ডিজিটাল জগৎকে উৎসাহিত করা হয়। নির্বাচনি প্রচারণার অর্থায়নসংক্রান্ত বিধানগুলো পর্যালোচনা ও শক্তিশালী করা যাতে ব্যয়ের সীমা ও প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতাগুলো বাস্তবসম্মত প্রয়োগযোগ্য এবং কার্যকর যাচাই ও তদারকির আওতাধীন হয়। বিদ্যমান অখণ্ড সুরক্ষাব্যবস্থা বজায় রেখে এবং অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা অন্বেষণ করার পাশাপাশি, বাংলাদেশে যেসব ভোটার নির্বাচনের দিনে সশরীরে ভোট দিতে অক্ষম, তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের যোগ্যতা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা। অন্যান্য শ্রেণির ভোটারদের ভোটাধিকার প্রদানের উপযোগী আগাম ভোটদানের মতো অতিরিক্ত ভোটদানের ব্যবস্থাও চালু করা যেতে পারে। গত বছরের শেষ দিক থেকে ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে, ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন নিয়ে মিশনটি তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।