আত্রাইয়ে রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তী উদযাপনে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

প্রকাশিতঃ মে ৭, ২০২৬ | ৯:১০ অপরাহ্ণ
নাসির উদ্দিন, উপজেলা সংবাদদাতা, আত্রাই, নওগাঁ

আগামী ২৫ বৈশাখ ৮ মে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে কবির স্মৃতি বিজড়িত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিগত দিনগুলোর চেয়ে এ বছর উৎসব আয়োজনের কলেবর অনেক বেশি থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় নাগর নদীর তীরে অবস্থিত পতিসরে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারি পরিচালনার কাচারি বাড়ি। এটি ছিল কবির নিজস্ব জমিদারি। জমিদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৮৯১ সালে প্রথম পতিসরে আসেন। শেষবারে আসেন ১৯৩৭ সালে। এর মধ্যে তিনি যখনই এসেছেন কুঠি বাড়িতে এবং নাগর নদীতে পদ্মা বোটে অবস্থান কালে বহু গল্প, কবিতা,ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছিন্ন পত্রের অনেক চিঠি এবং বিদায় অভিশাপ কাব্যনাট্য রচনা করেছেন। প্রজা হিতৈষী নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেন কবি। তিনি নোবেল বিজয়ীর প্রাপ্ত ১ লাখ টাকা দিয়ে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে প্রথম কৃষি ব্যাংকের আদলে কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি পতিসরে এবং কালিগ্রামে দু’টি পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। আজও সে প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রয়েছে। এই পতিসরে ১৯৯৩ সালে প্রথম সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জাতীয়ভাবে রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী পালন শুরু হয়। সেই থেকে রবীন্দ্রজয়ন্তীকে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।রবী ঠাকুরে জন্ম জয়ন্তীতে এখানে বসে গ্রামীণ মেলা। দূর দূরান্ত থেকে পতিসরের আশেপাশের গ্রামগুলোতে আত্মীয়স্বজনরা বেড়াতে আসেন। আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের যথারীতি এ বছরও ২৫ বৈশাখ কবির জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে ইতোমধ্যে পতিসর কাচারি বাড়ির নতুন করে রং বার্ণিশ করা, প্যান্ডেল এবং তোরণ নির্মাণ এবং রাস্তাঘাটগুলো সংস্কারের কাজ চলছে। আয়োজনকে বর্ণাঢ্য করতে সার্বিক ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এ. টি. এম মুমিন ও আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। নওগাঁ-৬(আত্রাই রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও আয়োজনের প্রধান উপদেষ্টা শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু জানিয়েছেন আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ওমর খৈয়াম এবং জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। আলোচক হিসেবে থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. হারুন অর রশীদসহ সরকারের একাধিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। কাজেই এবারের আয়োজন হবে সর্বাত্মক উৎসবমুখর বলে মনে করেন স্থানীয় রবীন্দ্র ভক্তরা।