তিতাসে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ

প্রকাশিতঃ মে ১১, ২০২৬ | ৫:২৭ অপরাহ্ণ
মোঃ সজিব জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত হক মিয়া সাবল হাতে নিয়ে মিছির আলীর পরিবারের সদস্যদের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। এছাড়া হক মিয়ার ছেলের হাতেও দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও সোটা দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এসব ছবি থেকেই হামলার ঘটনার সত্যতা স্পষ্ট হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি গ্রামের মিছির আলীর বাড়িতে গত ৭ মে বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিছির আলীর ছেলে মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে একই গ্রামের মো. হক মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক (২৫), মৃত নুরু মিয়ার ছেলে মো. হক মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী সাহেরা বেগম (৫০), মোজাম্মেল হকের স্ত্রী তানিয়া আক্তার (১৯), নুরুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা আক্তার (২৬)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে তিতাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগে বলা হয়, বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। হামলায় বাদীর বোনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা নগদ টাকা ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিসাধন করে নিয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে ওই বাড়িতে বসবাস করতে না দেওয়ার হুমকি দেয়। এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে অভিযুক্তদের একজন মো. হক মিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তারা। এ বিষয়ে হক মিয়ার সাথে হাসপাতালে সাংবাদিকরা কথা বললে তিনি বলেন মিছির আলীর পরিবার তারা আমার উপর হামলা করেছে, জানতে চাইলে কোথায় আপনাকে আঘাত করা হয়েছে দেখান, তিনি দেখাতে পারেন নাই। সুস্থ শরীর নিয়ে হসপিটালে ভর্তি আছেন,যা হাস্যকর। হক মিয়াকে শাবলের ছবি দেখালে তিনি আর কোন কথা বলেন নাই,এবং তিনি চুপ হয়ে যান। এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।