চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে অনুদান কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। পাকিস্তান সরকারের তথ্যের বরাতে ডন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আইএমএফের সরাসরি ছাড় বাদে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে পাকিস্তানের মোট বিদেশি সহায়তা এসেছে ৬.৫৯৪ বিলিয়ন ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৫.৫০৭ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ সহায়তা বেড়েছে ১৯.৭ শতাংশ।
বিশ্লেষণ || পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনা আর্থিক পরিমাণ কত?
তবে এই হিসাবের বাইরে রয়েছে আরও কিছু বড় অঙ্কের প্রাপ্তি। গত ডিসেম্বরে আইএমএফের দেওয়া ১.২ বিলিয়ন ডলার এবং মার্চ ও এপ্রিলে সৌদি আরব থেকে পাওয়া অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের আমানত এই হিসাবে ধরা হয়নি।
এগুলো যোগ করলে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ৯.৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে বিমান সংস্থার পর এবার ব্যাংক, হোটেল, বিদ্যুতসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেচে দিচ্ছে পাকিস্তান
মাসওয়ারি হিসাবেও ঋণ প্রবাহে স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষণীয়। শুধু মার্চ মাসেই বিদেশি সহায়তা এসেছে ৭৩১.৩ মিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৬৯২ মিলিয়ন ডলার। আর গত বছরের মার্চে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ৫৫৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে এবারের মার্চে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে ৩২ শতাংশ।
ঋণ যেখানে বাড়ছে, সেখানে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে অনুদানের ক্ষেত্রে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পাকিস্তানে বিদেশি অনুদান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০০.৩ মিলিয়ন ডলারে।
গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৩৫.৬ মিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে অনুদান কমেছে ২৭ শতাংশ। বিনা সুদে ও শর্তহীনভাবে পাওয়া অনুদানের এই হ্রাস পাকিস্তানের বৈদেশিক নির্ভরতার মানচিত্রে উদ্বেগের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বহুপাক্ষিক ঋণদাতাদের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি এই সময়ে পাকিস্তানকে ১.২০৫ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৯৮০ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। তাদের ছাড় করা অর্থ ৬৪ শতাংশ কমে ৭২৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১.১৯০ বিলিয়ন ডলার।
পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ: মোট ঋণের তুলনা
সর্বশেষ পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ১৩৮ বিলিয়ন ডলার। তুলনামূলকভাবে একই সময়ে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৭৮.০৭ বিলিয়ন ডলার, যা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ২১শে এপ্রিল সংসদকে জানিয়েছেন। সে হিসেবে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণ বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ।