সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিদেশ সফরে জনগণের অর্থের ব্যাপক অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ইউটিউবার জুলকারনাইন সায়ের।
১১ই মে, সোমবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে ৭৯ সদস্যের বিশাল দল নিয়ে আজারবাইজান সফর এবং যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল হোটেলে কোটি টাকার ব্যয়ের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
জুলকারনাইন তার পোস্টে লেখেন, “কপ-২৯ সম্মেলনে ৭৯ জনের টিম নিয়ে আজারবাইজান গিয়েছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।”
পোস্টের সঙ্গে তিনি সফরসঙ্গীদের সম্পূর্ণ তালিকাও প্রকাশ করেন। এই বিশাল প্রতিনিধিদলের পেছনে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তুলনা ইউনূসের লন্ডন সফরে বিলাসবহুল হোটেলে কোটি টাকার বিলের সাথে
সাংবাদিকের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ড. ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফরের আলোচিত হোটেল বিল।
ইউটিউবার জুলকারনাইন জানান, ব্রিটিশ রাজার কাছ থেকে ব্যক্তিগত পুরস্কার আনতে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় ড. ইউনূস ও তার দলের ৩৯ জন সদস্যের জন্য লন্ডনের অন্যতম ব্যয়বহুল হোটেল ‘দ্য ডরচেস্টার’-এ ৩৭টি কক্ষ বুক করা হয়।
হোটেলের বিলের কপি পর্যালোচনা করে তিনি দেখতে পান, চার রাতের সেই অবস্থানে মোট ব্যয় হয়েছে ২,১০,৩২৫ ব্রিটিশ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা (৯ই জুন ২০২৫-এর বিনিময় হার অনুযায়ী, ১ পাউন্ড = ১৬৬ টাকা)।
তিনি আরও জানান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নিজে যে কক্ষে ছিলেন, সেটির দৈনিক ভাড়া ছিল ৬,০৪৫ পাউন্ড বা প্রায় ১০ লাখ টাকা। সেই হিসেবে কেবল তার একটি কক্ষের চার রাতের বিলই দাঁড়ায় ২৪,১৮০ পাউন্ড বা প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
সবচেয়ে কম দামের কক্ষটির জন্যও দৈনিক গুনতে হয়েছে ৮২৫ পাউন্ড বা ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
“কৃচ্ছ্রসাধনের গল্প, কিন্তু কাজে বিপরীত চিত্র”
জুলকারনাইন সরাসরি অভিযোগ করে লেখেন, “ইউনূস সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রীয় অর্থের কৃচ্ছ্রসাধনের বহু গল্প শোনালেও নিজ সফরে রাষ্ট্রীয় অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার তিনি করেছেন।”
এই বৈপরীত্যকেই তিনি তার সমালোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
পোস্টের শেষে তিনি ইঙ্গিত দেন, কপ-২৯ সম্মেলনে ৭৯ সদস্যের সেই সফরের মোট ব্যয়ের তথ্যও তিনি অনুসন্ধান করে প্রকাশ করবেন।
উল্লেখ্য, এই অভিযোগগুলো এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা খণ্ডন করা হয়নি।