দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্বর্ণের বাজার

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০২৬ | ৫:০৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

আজ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর আগে লেনদেনের শুরুর দিকে মূল্যবান এ ধাতুর দাম কমে গত দেড় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। তবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে বন্ডের ফলন (ইয়াল্ড) বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের দামের এ বড় উত্থান কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোমবার (১৮ মে) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ০৯:০৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স (৩১.১০৩ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৫৪৬.০৪ ডলারে। এর আগে আজকের সেশনেই স্বর্ণের দাম কমে গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। অন্যদিকে, আগামী মাসে সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার বাজার দর ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪,৫৪৯.৭০ ডলারে। ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম \'ট্রেডু ডটকম\' এর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জ্যাবৌরাস বলেন, স্বর্ণের দামের এ পতন সাময়িক ও বাজার কাঠামোগত। বাজার এখনো স্বর্ণকে মন্দাভাবের (বেয়ার মার্কেট) দিকে ঠেলে দিতে প্রস্তুত নয়, কারণ স্বর্ণের কাঠামোগত ভিত্তি এখনো শক্তিশালী। আর এটিই বাজারে দাম ধরে রাখতে সহায়তা করছে। তবে তিনি আরও যোগ করেন, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে বোঝা যায়, চলতি বছরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় বাতিল করে দিয়েছে। উল্টো সুদের হার আরও বাড়ানোর বাজি ধরছেন বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হারের এ প্রবণতা স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল (যেখান থেকে নিয়মিত সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না) সম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। সোমবার টোকিও থেকে নিউইয়র্ক—সবখানেই বন্ডের বাজারে লোকসানের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। আর এ কারণেই বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার আরও বাড়াতে পারে। ইরান যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি মূলত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সিএমই গ্রুপের \'ফেডওয়াচ\' টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন। আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় ৪০ শতাংশ। এদিকে, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বড় বড় ব্যাংকগুলোও অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস পুনর্নির্ধারণ করে তা কমাতে শুরু করেছে। অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগকারী ব্যাংক জেপি মরগান তাদের ২০২৬ সালের স্বর্ণের গড় দামের পূর্বাভাস প্রতি আউন্স ৫,৭০৮ ডলার থেকে কমিয়ে ৫,২৪৩ ডলারে নামিয়েছে। ব্যাংকটির বিশ্লেষকেরা এক নোটে জানিয়েছেন, সামনের সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং সুদের হারের ওঠানামার কারণে বাজার বেশ অস্থির থাকতে পারে। তবে মার্কিন-ইরান যুদ্ধের অবসানই বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং স্বর্ণের চাহিদা পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রধান চাবিকাঠি। স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৭৫.৯৯ ডলারে। প্লাটিনামের দাম অপরিবর্তিত থেকে ১,৯৭৩.৩২ ডলারে রয়েছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪১৬.৫৫ ডলারে। সূত্র: রয়টার্স