স্বস্তি সাধারণ করদাতাদের, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল

প্রকাশিতঃ মে ২২, ২০২৬ | ১১:৩০ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

আসন্ন বাজেটে সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ করবর্ষের জন্য এই নতুন সীমা কার্যকর হবে। মূলত মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়া এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ঘোষণা থাকবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী দুই অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করহারের রূপরেখা দিয়ে গেছে। সেই কাঠামো অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা হবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। আর ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। একই সঙ্গে করের স্ল্যাবেও পরিবর্তন আনা হয়। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে, আয়কর ব্যবস্থার আওতা সংকীর্ণ রেখে দীর্ঘদিন একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে কর সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। বিএনপি এই বৈষম্যমূলক কাঠামোর অবসান ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের করজালের আওতায় আনা হবে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা, তথ্য বিনিময় ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা হবে। একই সঙ্গে করছাড় ও প্রণোদনাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা হবে। এতে আরও বলা হয়, বিএনপি আধুনিক সম্পত্তি কর ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ থেকে সৃষ্ট সম্পদ রাজস্বে রূপান্তরিত হবে এবং কর কাঠামোর ন্যায্যতা বাড়বে। সূত্র জানায়, নির্বাচিত সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী ‘সুপার রিচ’ বা অতি ধনীদের কাছ থেকে বাড়তি কর আদায়ের পথনকশা থাকবে আগামী বাজেটে। সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদ কর প্রবর্তন, উচ্চ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়কর হার বৃদ্ধি ও করহারের বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ, এটি বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হবে, যা ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ সালের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে আগামী অর্থবছর থেকেই উচ্চ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়কর বাড়ছে। ৩০০১ থেকে ৩৫০০ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়কর ২ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা এবং ৩৫০০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির অগ্রিম আয়কর আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হতে পারে। তবে মধ্যবিত্তের ব্যবহৃত ১৫০০ থেকে ২৫০০ হাজার সিসি পর্যন্ত গাড়ির অগ্রিম আয়কর অপরিবর্তিত থাকছে। অন্যদিকে সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদ কর প্রবর্তন করা হচ্ছে। সারচার্জ আদায় হতো প্রদেয় আয়করের ওপর। কিন্তু সম্পদ কর আদায় হবে সম্পদের মৌজামূল্যের ওপর। নতুন নিয়মে সারচার্জের মতো সম্পদ করের সীমা একই থাকবে। শুধু বদলে যাবে কর গণনার পদ্ধতি। যেমন: চার কোটি থেকে ১০ কোটির টাকার মধ্যে সম্পদ থাকলে তাকে সম্পদমূল্যের শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ দিতে হবে। ১০ কোটির বেশি, কিন্তু ২০ কোটি কম হলে এক শতাংশ; ২০ কোটির বেশি, কিন্তু ৫০ কোটির কম হলে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির বেশি হলে দুই শতাংশ ‘সম্পদ কর’ কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে সম্পদের মূল্য নির্ধারিত হবে বাজারভিত্তিক বা মৌজামূল্যে। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না। এতে সম্পদ কর কারও জন্য বোঝা তৈরি করবে না। বরং কর ন্যায্যতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী অর্থবছর থেকে অতি ধনীদের সম্পদ কর ও উচ্চ সিসির গাড়ির জন্য বাড়তি কর দিতে হবে। আর ব্যক্তিশ্রেণির করহার ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে। পক্ষান্তরে মধ্যবিত্তদের স্বস্তি দেবে আগামী বাজেট। কেননা ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করা হচ্ছে। স্ল্যাব অনুযায়ী করহার একই থাকবে। যদিও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় দেশের সব ব্যবসায়ী সংগঠন ও গবেষণা সংস্থা আগামী অর্থবছরের করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে। নতুনরূপে ফিরছে কালোটাকা : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাতিল করা অপ্রদর্শিত সম্পদ ও কালোটাকা রিটার্নে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এজন্য বিশেষ করহার নয়, রেগুলার রেটে কর দিতে হবে। অর্থাৎ যেই অর্থবছরে ওই সম্পদ বা অর্থ রিটার্নে প্রদর্শন করা হয়নি, সেই অর্থবছরের নির্ধারিত হারে কর দেওয়ার মাধ্যমে অপ্রদর্শিত সম্পদ রিটার্নে দেখানো যাবে। এছাড়া আয়কর আইনে অপ্রদর্শিত সম্পদ প্রদর্শন করলে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। এনবিআরের কোনো সংস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা আয়ের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। আওয়ামী সরকারের আমলে অপ্রদর্শিত সম্পদ ও লুকানো অর্থ ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে রিটার্নে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে এটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে এ বিধান বাতিল করে।