ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার খবর শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন একে একে খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করছিলেন, তখন নিজের নাম শোনার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৬ সদস্যের দলে নিজের নাম শুনে পুরো রাত নির্ঘুম কাটান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।
দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেয়ে নেইমার আবেগাপ্লুত। সাও পাওলোতে এক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, স্কোয়াডে ফেরার বিষয়টি মেনে নিতে এবং উপলব্ধি করতে তার অনেক সময় লেগেছে। সেই রাতজুড়ে তিনি নিজের পথচলার ভিডিও দেখেছেন এবং বারবার আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
স্ত্রী ব্রুনা বিয়ানকার্দি ও সন্তানদের সঙ্গে কাটানো সেই রাতের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নেইমার বলেন, ‘আমি সকাল সাড়ে ৬টা বা সাতটার দিকে ঘুমাতে গিয়েছিলাম, সব ভিডিও দেখছিলাম। আমি সারা রাত কান্না থামাতে পারিনি। আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ছিলাম, একই বিছানায় ছিলাম। তারা ঘুমাচ্ছিল এবং আমি প্রত্যেকটি ভিডিও দেখে কেঁদেছি।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোট ও শারীরিক সমস্যার কারণে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে নেইমারকে। তবে আবারও বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন। জাতীয় দলে ফেরার পথ যে সহজ ছিল না, সেটিও স্বীকার করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ এই গোলদাতা বলেন, ‘এটা ছিল কঠিন, অনেক কষ্টের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর ফল ভালো হয়েছে। এই ভালোবাসা, আবেগ ও ব্রাজিলিয়ান হওয়ার এই অনুভূতি এবং বিশ্বকাপে আপনাদের প্রত্যেকের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এই কষ্ট সার্থক হয়েছে।’
এখন পুরো মনোযোগ প্রস্তুতির দিকে রাখছেন নেইমার। সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ব্রাজিলের সবাইকে তাদের চমৎকার সমর্থন, উৎসাহ আর প্রতিক্রিয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এটা হতে যাচ্ছে খুবই বিশেষ একটি দিন, যেটা আমি সারাজীবন মনে রাখব।’
আগামী ২৭ মে বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ৩১ মে পানামার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে দলটি। বিশ্বকাপের আগে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচে ৬ জুন মিশরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। আর ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।