পবিত্র ঈদুল আজহার আর দিন কয়েক বাকি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটির আগে গতকাল রোববার ছিল শেষ কর্মদিবস। ফলে আজ ভোর থেকেই সড়ক, রেল ও নৌপথে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে লাখো মানুষ।
সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকেই মহাখালী বাসস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ দেখা গেছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।
বিশেষ করে মহাখালী বাসস্টেশন থেকে উত্তরাণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলগামী পরিবহণে যাত্রীচাপ তুলনামূলক বেশি। অনেকেই সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বাসে উঠতে পারছেন না।
বাস টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ থেকে ৭ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় ভোর থেকেই যাত্রীর চাপ রয়েছে। তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নেই বলে জানা যায়।
সরেজমিনে বেলা ১১টার পর গিয়ে দেখা যায়, মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রী উপস্থিতি তুলনামূলক অনেক বেশি। অধিকাংশ কাউন্টার মাস্টাররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোনো কোনো কাউন্টারে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ লাইন। নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে বাসের টিকিট। আর যেসব বাসের টিকিট কাউন্টার নেই, সেগুলোতে যাত্রীদের জন্য চালক-সহকারীরা হাঁকডাক করছেন। আর যেসব বাসের অগ্রিম টিকেট দিয়েছে তাদের টিকেট বিক্রির চাপ না থাকলেও সময়মত কাঙ্খিত বাসে যাত্রীদের তুলে দিতে ব্যস্থ সময় পার করছেন।
টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা জানান, ঈদের ৭ দিনের সরকারি ছুটি আজ থেকে শুরু হয়েছে, তাই আজ ভোর থেকেই ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ বেশি। এজন্য বাসে উঠতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জয়পুরহাটগামী সরকারি চাকুরীজীবি মো. তালেবুর বলেন, এবার ট্রেনের টিকিট পাইনি। তাই বাসে যেতে হচ্ছে। সরকারি ছুটি আজ থেকে শুরু হওয়ায় বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি সব মিলিয়ে একটু সময় বেশি লাগবে মনে হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জগামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিশোরগঞ্জগামী হালিমা বেগম জানান, সরকারি ছুটি আজ থেকে শুরু, তাই যাত্রীর চাপ রয়েছে তার মধ্যেও সবাই সুশৃঙ্খলভাবে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছে। টিকেট পেয়েছি তবে বাসের জন্য একটু সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাসের টিকিট পেতে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া লাগছে না। গতবছর দ্বিগুণ ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে হয়েছিল।
অনন্যা ক্লাসিক পরিবহণের মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টার ম্যানেজার মো. মনোয়ার হুসেন জানান, সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। তবে আজ থেকে সরকারি অফিস ছুটি হয়েছে তাই সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ রয়েছে।
একতা পরিবহণের কাউন্টার মাস্টার মো. ইলিয়াস বলেন, সরকারিভাবে আজ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে, তাই আজকে যাত্রীর চাপ বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে অগ্রিম টিকিটের চাপটা অনেক বেশি। আমরা এখন টিকেট বিক্রি করছি না শুধু যারা অগ্রিম টিকেট নিয়েছে, তাদের সময়মত কাঙ্খিত বাসে তুলে দিচ্ছি। অতিরিক্ত বাস রাখার পরিকল্পনা রয়েছে পরিস্থিতি বুঝে।
মহাখালী বাস মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে টার্মিনালের ভেতর-বাহিরে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেউ যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে কমিটির সদস্যরা নজর রাখছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন। সবমিলে এবার ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বলে আশা ব্যক্ত করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)ট্রাফিক গুলশান বিভাগের মহাখালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো:রাসেল রানা জানান, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবারের ন্যায় এবারো আমরা আগাম প্রস্তুুতি সম্পন্ন করেছি যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স নিযুক্ত করা হয়েছে। শুধু বাসস্ট্যান্ডের জন্য ঈদকে সামনে রেখে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও আমাদের লোকজন আছে যাতে অতিরিক্ত ভাড়া যেন না নিতে পারে।
তিনি আরও জানান, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এবং আশেপাশের এলাকায় কোনো অবস্থাতেই পরিবহণের যানজট যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমাদের বিশেষ টিম নিয়োজিত রয়েছে সার্বক্ষণিক।
রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রী বহনে প্রায় দুই হাজারের বেশি বাস রয়েছে। ঈদে লম্বা ছুটি এবং যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও ভোগান্তিমুক্ত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন পরিবহণসংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাড়তি পরিবহণ। প্রতিবছর মহাখালী বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে। তবে এবার এখন পর্যন্ত টিকিটে কোনো ধরনের বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন টার্মিনালে আসা সাধারণ যাত্রীরা।