মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে মঙ্গলবার মাত্র ১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। এর মধ্য দিয়ে তিনি পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ডে ভাগ বসালেন।
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাওহিদ হৃদয়ের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫ উইকেটে ৩৩৯ রানের পাহাড় গড়ে মোহামেডান। ৩৪০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় রূপগঞ্জের প্রয়োজন ছিল এক ঝোড়ো শুরু।
হাবিবুর ঠিক সেই কাজটিই করেন বাংলাদেশের গতি তারকা নাহিদ রানাকে তুলোধোলা করে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের ব্যাটারদের গতি দিয়ে পরাস্ত করা রানা এদিন এই আক্রমণাত্মক ওপেনারের তোপের মুখে পড়েন।
রানার প্রথম ওভারে এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে শুরু করা হাবিবুর পরের ওভারেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। রানার সেই ওভার থেকে ৩টি ছক্কা ও ২টি চারে ২৬ রান তুলে নেন তিনি, যা গতিময় এই বোলারের ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে একটি দিন পার করার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
ওভার শেষে মাত্র ১৩ বলে ৪৬ রানে পৌঁছে যান হাবিবুর, যার ফলে নতুন এক রেকর্ড গড়ার হাতছানি ছিল তাঁর সামনে। এককভাবে নতুন রেকর্ড গড়তে না পারলেও, অষ্টম ওভারে তাইজুল ইসলামের বলে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল সীমানা ছাড়া হলে বিদ্যমান রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি।
ডানহাতি এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ৫৯ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে আউট হন। ১১তম ওভারে তাইবুর রহমানের বলে লেগ-বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ার আগে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায়। তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংস রূপগঞ্জকে অবিশ্বাস্য এক রান তাড়ার পথে দারুণভাবে টিকিয়ে রেখেছিল।
তবে এরপর দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে রূপগঞ্জের সেই গতি থমকে যায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৩.২ ওভারে ১১৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল রূপগঞ্জ।
ঘরোয়া ক্রিকেটে অবশ্য আরেকটি ব্যাটিং রেকর্ডের অংশীদার হাবিবুর। এর আগে নর্থ জোনের হয়ে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। চলতি মৌসুমে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে আবাহনীর হয়ে মোসাদ্দেক হোসেনের ৪৯ বলের সেঞ্চুরিটির মাধ্যমে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।