ব্রাজিলের শক্তিমত্তা আনচেলত্তিকে ফেলল ‘মধুর সমস্যায়’

প্রকাশিতঃ জুন ২, ২০২৬ | ৬:২১ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

গতকালের প্রীতি ম্যাচে মারাকানায় পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। এই বড় জয় কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে যেমন আনন্দ দিয়েছে, তেমনি আবার একটা চিন্তায়ও ফেলে দিয়েছে। এই মাস্টার ট্যাকটিশিয়ান নিজেই স্বীকার করেছেন, দলের ফুটবলাররা যেভাবে খেলেছেন, তাতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কাকে রেখে কাকে নামাবেন—তা ঠিক করা এখন তাঁর জন্য আরও কঠিন হয়ে গেল। ম্যাচে এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে আরেকটা গোল করিয়ে বড় তারকা ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে আনচেলত্তির নজর কেড়েছে মূলত দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। তাঁর মতে, পরের অর্ধে যাঁরা নেমেছিলেন, তাঁরা মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইটা আরও জমিয়ে দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, ‘খেলার দ্বিতীয়ার্ধ আমার মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এটা ভালো লক্ষণ, এমন মধুর সমস্যা থাকা তো দলের জন্যই মঙ্গল।’ ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য দাপট ছিল ব্রাজিলের। খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। মাঝখানে মাইকেল মুরিলোর একটা ফ্রি-কিক ব্রাজিলের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকলে সমতায় ফেরে পানামা। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ভিনিসিয়ুসের চমৎকার ক্রস থেকে হেডে গোল করে সেলেসাওদের আবার এগিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। বিরতির পর আনচেলত্তি দলে একসঙ্গে অনেকগুলো পরিবর্তন আনেন। ডিফেন্ডার লিও পেরেইরা ছাড়া মাঠের বাকি সব খেলোয়াড়কেই বদলে ফেলেন তিনি। কোচের এই আস্থার মর্যাদা দারুণভাবে দিয়েছেন বদলি ফুটবলাররা। রায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগর থিয়াগো এবং দানিলো—সবাই একে একে গোল করেন। আর তাতেই একসময়ের কঠিন ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের জন্য এক সহজ জয়ে রূপ নেয়। আনচেলত্তি বলেন, ‘দলের জন্য এটি খুবই দরকারি একটা ম্যাচ ছিল। যাঁরা পরে মাঠে এসেছেন, তাঁরা নিজেদের চেনা রূপ দেখিয়েছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে তাঁরাও শুরুর একাদশে থাকার যোগ্য।’ কোচের এই কথায় পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে যে, মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশনের প্রথম ম্যাচে মূল একাদশে থাকার দৌড়ে বেশ কয়েকজন ফুটবলার নিজেদের দাবি জোরালো করে রাখলেন। ছয় গোল পেলেও দলের কিছু জায়গায় এখনো খামতি দেখছেন এই ইতালিয়ান কোচ। তিনি জানান, প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের ওপর চেপে বসে খেলার (হাই-প্রেসিং) যে পরিকল্পনা ছিল, তা পুরোপুরি কাজে আসেনি। তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা ওদের চেপে ধরে খেলতে চেয়েছিলাম। সত্যি বলতে, যখন প্রেসিং ঠিকঠাক কাজ করে না, তখন আরও দ্রুত বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হয়।’ পাশাপাশি মাঠের ভেতর দলের খেলোয়াড়দের একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া ও দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন তিনি। রক্ষণভাগকে আরও গোছানো করার তাগিদ দিয়ে কোচ বলেন, মাঝেমধ্যে রক্ষণ সামলাতে একটু নিচে নেমে খেললে পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে আরও সহজে ঘায়েল করা যায়। বিশ্বকাপের মূল একাদশ এখনো মনে মনে চূড়ান্ত করেননি আনচেলত্তি। কারণ হিসেবে মনে করিয়ে দেন, দলের বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড় এই ম্যাচে ছিলেন না। পায়ের পেশির চোট থেকে সেরে উঠছেন নেইমার। আর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলে আসায় বিশ্রামে ছিলেন মার্কিনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগাহায়েস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার দল এখনো শতভাগ গোছানো নয়, কারণ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এখনো দলে যোগ দেননি।’ মরক্কোর মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্রাজিলের হাতে সময় আছে দুই সপ্তাহেরও কম। আনচেলত্তি মনে করেন, আগামী দিনগুলো ফুটবলারদের ফিটনেস পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত ঘুঁটি চালার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে যাওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যোগ করলেন, ‘দ্বিধাটা শুধু প্রথম ম্যাচের সেরা একাদশ বেছে নেওয়া নিয়ে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, আমাদের দলটা কিন্তু দারুণ শক্তিশালী।’