হাদি ইস্যুতে গ্যাঁড়াকলে মমতা, খেলেন রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাও

প্রকাশিতঃ জুন ৫, ২০২৬ | ৫:২০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের করা বেফাঁস মন্তব্যের জেরে ফেঁসে গেছেন গ্যাঁড়াকলে। তার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির এক আইনজীবী। অভিযোগকারী আইনজীবী রিঙ্কি সিং দাবি করেছেন, একজন সাংবিধানিক পদধারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ সম্পর্কিত তার সাম্প্রতিক বক্তব্য ভারতের কূটনৈতিক স্বার্থ এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রিঙ্কি সিং বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন, তখন তিনি শপথ নিয়েছিলেন যে দেশের সুরক্ষা, সার্বভৌমত্ব ও সংহতি তিনি রক্ষা করবেন। কিন্তু তার বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।” বিতর্কের সূত্রপাত গত ২রা মে এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে। ওই সভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন জানি।” তার এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়। একই বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) কার্যক্রমের প্রশংসা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ অ্যারেস্ট করেছিল জেনে রাখুন। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভল্যুশন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার সেই অধিকার নেই, কিন্তু আমার মুখ্য বক্তব্য হলো, তারা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে। তখন আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে।” তিনি আরও দাবি করেন, “হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেন… আপনি বেঙ্গল পুলিশকে বলে দিন এই কথা যেন বাইরে না যায়। এটা দেশের স্বার্থে।” মমতার এসব বক্তব্যের পর আইনজীবী রিঙ্কি সিং তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের মন্তব্য করা হলে তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। রিঙ্কি সিং বলেন, “বাংলাদেশের সরকার এমনকি ওসমান হাদির পিতামাতাও এই হত্যাকাণ্ডে ভারতের দিকে আঙুল তোলেননি। ফলে মমতা দেশের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় বিপদের জন্ম দিয়েছেন। এই মন্তব্যের ফলে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তি সক্রিয় হতে পারে এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা অসুরক্ষিত হয়ে পড়তে পারেন।” তিনি আরও জানান, শিলিগুড়ি সাইবার থানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হাইকোর্ট খোলার পর তার গ্রেপ্তারের আবেদনও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগে যে আইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো ইউএপিএ (Unlawful Activities Prevention Act)। ভারতে সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনের উদ্দেশ্যে প্রণীত এই আইন দেশের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তা আইন হিসেবে পরিচিত। এই আইনের আওতায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে জামিন পাওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন এবং তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে দীর্ঘ সময় হেফাজতে রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ দায়ের করা হলেও মামলাটি আদালত গ্রহণ করবে কি না, কিংবা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ফৌজদারি তদন্ত শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ইতোমধ্যে দুই বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন বিষয়টি আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।