মে মাসে রপ্তানিতে ধস, ধাক্কা লেগেছে তৈরি পোশাক খাতেও

প্রকাশিতঃ জুন ৫, ২০২৬ | ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

এক মাসের ব্যবধানে আবারও দেশের পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। গত এপ্রিলে দীর্ঘদিন পর রপ্তানি খাত প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরলেও মে মাসে সেই ধারা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। বরং বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় ৭ শতাংশ কমে গেছে। ফলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের পণ্য। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। মে মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ৩৫৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশই পোশাক খাত থেকে আসে। ফলে এই খাতে নেতিবাচক প্রবণতা সার্বিক রপ্তানি আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসের হিসাবেও রপ্তানি পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। এই সময়ে তৈরি পোশাকের চালান কমে যাওয়ায় দেশের মোট রপ্তানি আয় প্রায় আড়াই শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার। এর আগে টানা আট মাস দেশের রপ্তানি খাত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ছিল। দীর্ঘ সময়ের সেই মন্দা কাটিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিলে রপ্তানি আয় কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি কার্যক্রমের উন্নতির মাধ্যমে খাতটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে। তবে মে মাসের পরিসংখ্যান সেই আশাবাদে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদার ওঠানামা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক রপ্তানি আয় আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। রপ্তানি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস। ফলে এই খাতকে আবারও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনা সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। রপ্তানি আয় পুনরুদ্ধারে বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন ক্রেতা আকর্ষণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়গুলো এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এপ্রিল মাসের সাময়িক স্বস্তির পর মে মাসে রপ্তানি আয়ের পুনরায় পতন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশের রপ্তানি খাত এখনো স্থিতিশীল পুনরুদ্ধারের পথে পৌঁছাতে পারেনি। আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর থাকবে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের।